১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মুসলিম বিশ্ব

‘অন্য দেশের প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে’ই ইরানের বিক্ষোভকারীরা নিজ দেশে ভাঙচুর করছে: আলী খামেনি

‘অন্য দেশের প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে’ই ইরানের বিক্ষোভকারীরা নিজ দেশে ভাঙচুর করছে: আলী খামেনি

ইরানে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভের মুখে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে ইরানের সরকার কোনোভাবেই পিছু হটবে না। বরং বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে তিনি বলেছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দিতে বিদেশি শক্তি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে আলী খামেনি বলেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ কেবল অর্থনৈতিক অসন্তোষের ফল নয়, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। বিক্ষোভকারীদের ‘ভাঙচুরকারী’ ও ‘নাশকতাকারী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, এই বিক্ষোভকারীরা বিদেশি স্বার্থ বাস্তবায়নের জন্য মাঠে নেমেছে।

আলী খামেনি বলেছেন, বিক্ষোভকারীরা ‘অন্য একটি দেশের প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে নিজ দেশের রাস্তাঘাট ধ্বংস করছে। কারণ তিনি বলেছেন তিনি তাদের সাহায্য করতে আসবেন।’ কোন দেশের প্রেসিডেন্ট তা সরাসরি না বললেও ইঙ্গিত কার দিকে, বুঝতে কষ্ট হয় না। দিন দুয়েক আগেই যে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের মেরে ফেললে আমেরিকা ইরানে হামলা চালাবে।

বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজে সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড টাম্প এমনও দাবি করেছেন যে, আলী খামেনি ইরান থেকে পালানোর পথ খুঁজছেন। ‘তিনি কোথাও চলে যাওয়ার পথ খুঁজছেন। অবস্থা খুব খারাপ দিকে যাচ্ছে’, বলেছেন ট্রাম্প।

এদিকে আজ আলী খামেনির এই ভাষণ ছিল বিক্ষোভ শুরুর পর তাঁর প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া। এতে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্যের কিছুক্ষণ আগেই ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই ঘোষণা দেন, বিক্ষোভকারীদের ‘সর্বোচ্চ মাত্রার’ শাস্তি দেওয়া হবে এবং আইনের দিক থেকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।