১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

‘যেকোনো মুহূর্তে’ যমুনা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি ইনকিলাব মঞ্চের

শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে তাঁর সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ দাবির বিষয়ে কোনো সাড়া না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দাবি না মানলে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ‘যেকোনো মুহূর্তে’ ঘেরাও করা হতে পারে।

আজ শনিবার বিকেলে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

শাহবাগে কর্মসূচি চলাকালে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের উদ্দেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘যাঁরা ভাবছেন, কিছুদিন ক্ষমতায় থেকে বিদেশে পাড়ি জমাবেন, তাঁদের সেই স্বপ্ন সফল হবে না। রক্তের সঙ্গে বেইমানি করলে এই জমিনেই আপনাদের বিচার করবে জনতা। হাদির খুনের বিচার না করে কাউকেই সেফ এক্সিট (নিরাপদ প্রস্থান) দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো মুহূর্তে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাওয়ের কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।’

বিক্ষোভস্থল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এলেও তাঁরা খুনিদের বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসার দাবি করা এই প্রশাসনের জন্য এটি চরম লজ্জার বিষয়।

উপদেষ্টাদের কাছে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা প্রশ্ন করেন, ‘হাদি হত্যার বিচারে কারা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে? যারা এই খুনের পেছনে রয়েছে, তাদের নাম প্রকাশ করুন। আমরা আপনাদের পাহারা দেব। ভয়ের কিছু নেই। কিন্তু বিচার করতে ব্যর্থ হলে আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা হাদিকে মাথায় গুলি করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তিন দিন পর ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।