বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে ইতালি; কর্মসূচি আগামী মাসে

বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ইতালি সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় আগ্রহীদের ইতালীয় ভাষা, দেশটির সংস্কৃতি ও সামাজিক রীতিনীতি এবং সংশ্লিষ্ট কাজের প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা শেখানো হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের ইতালিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। আগামী মাসে এ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ তথ্য জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইতালির ভিসাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় ভূমিকার কথা তুলে ধরেন ইতালির রাষ্ট্রদূত। দুই দেশের বিদ্যমান অংশীদারত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা মোকাবিলায় বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি ইতালিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ অবস্থায় অনিয়মিত অভিবাসন নিরুৎসাহিত করে বৈধ পথে কর্মী যাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন দুই পক্ষ। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইতালির ভিসার সংখ্যা বাড়ানো এবং আবেদনপ্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টিও উঠে আসে।

বাংলাদেশ সরকারের তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রস্তাব তুলে ধরেন ইতালির রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের ইতালীয় ভাষার পাশাপাশি দেশটির সংস্কৃতি, সামাজিক আচরণবিধি এবং কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক ও কারিগরি দক্ষতা শেখানো হবে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষিত কর্মীদের ইতালিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।

ইতালির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানো এবং তরুণদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ইতালির অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে ইতালির দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ফেদেরিকো জাম্পারেলিও উপস্থিত ছিলেন।

Home R3