পর্তুগালে ২০২৭ সালে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বাড়িভাড়া। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের (আইএনই) সর্বশেষ মূল্যস্ফীতির হিসাবের ভিত্তিতে আগামী বছরের ভাড়া বৃদ্ধির এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইএনইর তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত প্রাথমিক হিসাব অনুসারে, আগস্ট পর্যন্ত ১২ মাসে আবাসন খাতের মূল্য বাদ দিয়ে ভোক্তা মূল্যসূচকের গড় পরিবর্তনের ভিত্তিতে এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
পর্তুগালের নতুন নগর ভাড়াটিয়া আইন (এনআরএইউ) অনুযায়ী, বাড়িওয়ালারা বার্ষিক ভাড়া সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ হার ব্যবহার করতে পারবেন। তবে ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নেই।
ভাড়া বাড়ানোর আগে দিতে হবে নোটিশ :
ভাড়া বৃদ্ধির সরকারি হার আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে দেশটির সরকারি গেজেট ‘দিয়ারিও দা রিপাবলিকা’য় প্রকাশ করতে হবে। হারটি প্রকাশের পর বাড়িওয়ালারা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে ভাড়াটিয়াদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে পারবেন।
তবে নতুন ভাড়া কার্যকর করার আগে ভাড়াটিয়াকে কমপক্ষে ৩০ দিনের নোটিশ দিতে হবে। অর্থাৎ, নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করে বাড়িওয়ালারা তাৎক্ষণিকভাবে ভাড়া বাড়াতে পারবেন না।
চলতি বছরের তুলনায় ২০২৭ সালের ভাড়া বৃদ্ধির হার বেশি। এ বছর ভাড়া বাড়ানোর নির্ধারিত হার ছিল ২ দশমিক ২৪ শতাংশ।
উদাহরণ হিসেবে, বর্তমানে কোনো বাসার মাসিক ভাড়া ১ হাজার ইউরো হলে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ হারে তা সর্বোচ্চ ২৫ দশমিক ৬০ ইউরো বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন মাসিক ভাড়া হবে ১ হাজার ২৫ দশমিক ৬০ ইউরো। তবে এ জন্য বাড়িওয়ালাকে প্রযোজ্য আইন ও নিয়ম মেনে চলতে হবে।
ভাড়াটিয়াদের জন্য আর্থিক সহায়তা :
আবাসন ব্যয়ের চাপে থাকা পরিবারগুলোর জন্য পর্তুগালে বিশেষ ভাড়া সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। ‘পোর্তাল দা হাবিতাসাও’ বা দেশটির আবাসনবিষয়ক সরকারি পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য পরিবারগুলো মাসে সর্বোচ্চ ২০০ ইউরো পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারে। এই অর্থ ফেরত দিতে হয় না।
পরিবারের আয়ের তুলনায় বাড়িভাড়ার অতিরিক্ত চাপ কমানোই এই সহায়তার উদ্দেশ্য। পরিবারের আয়ের সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ ভাড়া বাবদ ব্যয় ধরেই সহায়তার পরিমাণ হিসাব করা হয়।
এই সহায়তা পেতে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারী পরিবারের করসংক্রান্ত আবাসিক ঠিকানা পর্তুগালে হতে হবে। পাশাপাশি, ২০২৩ সালের ১৫ মার্চের মধ্যে স্বাক্ষরিত এবং নিবন্ধিত প্রথম বাসার ভাড়ার চুক্তি অথবা উপভাড়ার চুক্তি থাকতে হবে।
এ ছাড়া পরিবারের আয়ের অন্তত ৩৫ শতাংশ বাড়িভাড়া বাবদ ব্যয় হতে হবে।
পরিবারের আয়েরও নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। বার্ষিক আয় করব্যবস্থার ষষ্ঠ আয়স্তরের সর্বোচ্চ সীমার বেশি হতে পারবে না। ২০২৩ সালে এই সীমা ছিল ৩৮ হাজার ৬৩২ ইউরো।
যাঁদের বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দিতে হয় না, তাঁদের ক্ষেত্রে ওই আয়স্তরের সর্বোচ্চ সীমার ১৪ ভাগের এক ভাগকে মাসিক আয়ের সীমা নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
আয় হিসাবের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু কর্মসংস্থান থেকে পাওয়া আয় এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বিভিন্ন ভাতাও বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অবসরকালীন, উত্তরাধিকারী ও প্রতিবন্ধী ভাতা, বেকারত্ব ভাতা, মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ভাতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি আয়ভাতা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সামাজিক ভাতা, বয়স্কদের জন্য সংহতি ভাতা এবং অসুস্থতা, পেশাগত রোগ ও অনানুষ্ঠানিক পরিচর্যাসংক্রান্ত ভাতা।
সহায়তা পেতে আলাদা আবেদন লাগবে না :
যোগ্য পরিবারগুলোকে বিশেষ ভাড়া সহায়তা পাওয়ার জন্য আলাদা করে আবেদন করতে হয় না। আবাসনবিষয়ক সরকারি পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সহায়তা দেওয়া হয়।
ভাড়াটিয়াদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৭ সালের ভাড়া বৃদ্ধির সরকারি হার কবে দেশটির সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। ওই হার প্রকাশিত হওয়ার আগে নতুন বার্ষিক ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া যাবে না।
সূত্র : দ্য পর্তৃগাল নিউজ