২১ নভেম্বর খুলছে লিসবনের প্রাচীন শিল্পকলা জাদুঘর

পর্তুগালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাদুঘর লিসবনের জাতীয় প্রাচীন শিল্পকলা জাদুঘর আগামী ২১ নভেম্বর দর্শনার্থীদের জন্য আবার খুলে দেওয়া হবে। সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের কাজে ৮৫ লাখ ইউরো ব্যয় করার পর এক বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকা জাদুঘরটি পুনরায় চালু হচ্ছে।

গত ৮ অক্টোবর সংসদে এক বিতর্কের সময় জাদুঘরটি খোলার তারিখ ঘোষণা করেন পর্তুগালের সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী মার্গারিদা বালসেইরো লোপেস। চেগা দলের সংসদ সদস্য পাত্রিসিয়া কারভালহোর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ ঘোষণা দেন।

২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জাদুঘরটি বন্ধ করা হয়েছিল। এরপর পর্তুগালের পুনরুদ্ধার ও স্থিতিস্থাপকতা পরিকল্পনার (পিআরআর) আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে সেখানে ব্যাপক সংস্কারকাজ করা হয়।

সংস্কারকাজের মধ্যে রয়েছে ভবনটির উত্তর দিকের দেয়ালের সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, সাবেক আলভোর প্রাসাদের অংশবিশেষের ছাদ সংস্কার এবং ঐতিহাসিক আলবার্তাস চ্যাপেলের পুনরুদ্ধারকাজ সম্পন্ন করা।

১৮৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরে মধ্যযুগ থেকে শুরু করে ১৯ শতক পর্যন্ত সময়ের প্রায় ৪০ হাজার শিল্পকর্ম রয়েছে। এর সংগ্রহে পর্তুগাল ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য, কারুশিল্প এবং পর্তুগালের সমুদ্রযাত্রা ও সামুদ্রিক অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন নিদর্শন রয়েছে।

জাদুঘরটিতে পর্তুগালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক শিল্পকর্মের সংগ্রহ রয়েছে। দেশটির জাতীয় সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত শিল্পকর্মের সবচেয়ে বড় সংগ্রহও এখানে রয়েছে। এ ছাড়া ঐতিহাসিক আসবাবপত্রের সবচেয়ে সমৃদ্ধ সংগ্রহ রয়েছে এই জাদুঘরে।

জাদুঘরটির বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৫ শতকের পর্তুগিজ চিত্রশিল্পী নুনো গনসালভেসের আঁকা ‘প্যানেলস অব সেন্ট ভিনসেন্ট’। ২০২০ সাল থেকে চিত্রকর্মটির পুনরুদ্ধারকাজ চলছে। এ ছাড়া রয়েছে ‘বেলেম মনস্ট্রান্স’, যা পর্তুগালের স্বর্ণকারদের তৈরি শিল্পকর্মের অন্যতম সেরা নিদর্শন।

জাদুঘরটির অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে জাপানের সঙ্গে পর্তুগিজ বণিকদের যোগাযোগের চিত্র তুলে ধরা ‘নামবান স্ক্রিনস’, হিয়েরোনিমাস বশের আঁকা ‘দ্য টেম্পটেশন অব সেন্ট অ্যান্টনি’ এবং আলব্রেখট ডুরারের ‘সেন্ট জেরোম’।

জাদুঘরটি বন্ধ থাকলেও দর্শনার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এ জন্য ‘ও এমএনএএ এস্তা আকি’ বা ‘এমএনএএ এখানে’ নামে একটি ভ্রাম্যমাণ উদ্যোগ চালু রাখা হয়েছে। এর আওতায় জাদুঘরের নির্বাচিত শিল্পকর্ম পর্তুগালের মূল ভূখণ্ড, আজোরেস ও মাদেইরা দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে প্রদর্শন করা হচ্ছে।

আগামী নভেম্বরে জাদুঘরটি পুনরায় চালু হলে লিসবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক দর্শনীয় স্থানটি আবারও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হবে। এর মাধ্যমে পর্তুগাল ও ইউরোপের কয়েক শতাব্দীর শিল্প ও ঐতিহ্য আরও সহজে দেখার সুযোগ পাবেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা।

সূত্র : দ্য রেসিডেন্ট

Home R3