সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান সমর্থিত হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। বাকি ছয়জন যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের নাগরিক।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। এ কারণে সাময়িকভাবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে রিয়াদের বিমানবন্দরে হুথিদের ধারাবাহিক হামলা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। রিয়াদকে বৈশ্বিক ভ্রমণ ও ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত করতে চান তিনি। এসব হামলার কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হুথিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল বুখাইতি শনিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আল বুখাইতি বলেন, ইয়েমেনের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, বিয়ের অনুষ্ঠান ও শোকসভার হল, হাসপাতাল এবং বাজারের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো উচিত নয়, তা বিশ্বকে বোঝাতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে হুথিরা দাবি করছে। তাঁর বক্তব্য, ইয়েমেনের বেসামরিক স্থাপনার ক্ষেত্রে যে নীতি প্রযোজ্য, বিশ্বের অন্যান্য স্থানের একই ধরনের স্থাপনার ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
এদিকে হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদক বিমানবন্দরের দিকে অন্তত ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স যেতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। এ সময় পুলিশ বিমানবন্দরে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর উপসাগরীয় কোনো আরব দেশে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।