পাঁচ ওয়াক্ত আজানে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ এলাহাবাদ হাইকোর্টের

ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে আয়েশা মসজিদে দিনে পাঁচ ওয়াক্ত আজান দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। তবে আজানের সময় মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন এবং আদালতের আগের নির্দেশনা মানতে হবে।

শানাওয়াজ খানসহ পাঁচজনের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই নির্দেশ দেন।

আবেদনকারীদের অভিযোগ ছিল, আয়েশা মসজিদে আজানের জন্য মাইক ব্যবহার করতে তাদের বাধা দিচ্ছে প্রশাসন। তবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, তাদের আজান দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। শুধু মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে শব্দের মাত্রা ও নির্ধারিত সময়ের আইন মানতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি অজিত কুমার ও বিচারপতি গরিমা প্রসাদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। শুনানিতে রাজ্য সরকার ২০২০ সালে আজানে মাইক ব্যবহারের বিষয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দেওয়া একটি রায়ের কথাও তুলে ধরে।

ওই রায়ে আদালত বলেছিলেন, আজান ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে মাইক বা শব্দ বাড়ানোর যন্ত্রের মাধ্যমে আজান দেওয়া ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়।

আদালত আরও বলেছিলেন, মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইন মেনে চলতে হবে। রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া মাইক ব্যবহার করাও বেআইনি।

বর্তমান মামলায় আবেদনকারীরা আদালতকে জানান, তারা শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন ও ২০২০ সালের আদালতের নির্দেশনা মেনে চলবেন। আজানের সময় মাইক ব্যবহার করা হলে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত শব্দসীমা ও সময় মেনে তা করা হবে।

এরপর আদালত আবেদনকারীদের নোটারি করা অঙ্গীকারনামাসহ আবেদন জমা দিতে বলেন। সেখানে আইন ও আদালতের আগের নির্দেশনা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

আদালত বলেন, আবেদন ও অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়ার পর আয়েশা মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত আজান দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন যেন বাধা না দেয়। তবে মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইন ও আদালতের নির্দেশনা মানতে হবে।

একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছেন, নিয়ম ভঙ্গ হলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। অর্থাৎ, এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই আদেশে মাইকে আজান দেওয়ার অবাধ অনুমতি দেওয়া হয়নি। বরং আইন ও আদালতের নির্দেশনা মেনে পাঁচ ওয়াক্ত আজান দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

Home R3