পর্তুগালে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার নোটিশের সংখ্যা ২০২৫ সালে ব্যাপক বেড়েছে। দেশটির ইন্টিগ্রেশন, মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম এজেন্সি (আইমা) প্রকাশিত অভিবাসন ও আশ্রয় প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পর্তুগালে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বিদেশিদের স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার জন্য ২৩ হাজার ১৩৩টি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে এমন নোটিশ দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৪৪৬টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নোটিশের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫১ দশমিক ৯ গুণ।
আইমা বলছে, আগের কয়েক বছরে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার নোটিশের সংখ্যা কমে যাওয়ার যে প্রবণতা ছিল, ২০২৫ সালের বৃদ্ধি তার ব্যতিক্রম। সংস্থাটির মতে, দীর্ঘদিনের অপেক্ষমাণ আবেদন নিষ্পত্তি ও নিয়মিত করার প্রক্রিয়া জোরদার করার পাশাপাশি প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম বাড়ানোর কারণেও এই সংখ্যা বেড়েছে।
স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার নোটিশ হলো আইমা, জাতীয় রিপাবলিকান গার্ড (জিএনআর) বা জননিরাপত্তা পুলিশ (পিএসপি) থেকে দেওয়া একটি সরকারি নির্দেশনা। পর্তুগালে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা কোনো বিদেশিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলে সেটিই এই নোটিশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সবচেয়ে বেশি নোটিশ ভারতীয়দের :
২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার নোটিশ পেয়েছেন ভারতের নাগরিকেরা। তাদের দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৯৮৪টি নোটিশ।
এরপর রয়েছে বাংলাদেশ ২ হাজার ৯৩৪টি, পাকিস্তান ১ হাজার ৮৯১টি, নাইজেরিয়া ১ হাজার ৯৫টি, আলজেরিয়া ১ হাজার ১৫টি, মরক্কো ৭২২টি এবং নেপাল ৫৮০টি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পর্তুগালে পরিবার পুনর্মিলনের ২৪ হাজার ৪৭৬টি আবেদন বর্তমানে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব আবেদন ইতোমধ্যে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো দেওয়া হয়নি।
পর্তুগালে বিদেশি নাগরিক প্রায় ১৬ লাখ
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ পর্তুগালে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫৪ জন। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার বেশি।
দেশটির মোট ১ কোটি ১৪ লাখ ২৪ হাজার ৩১ জন বাসিন্দার মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ১৪ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশটির কিছু এলাকায় বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা স্থানীয় নাগরিকদের তুলনায় অনেক বেশি। যেমন ওদেমিরায় মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশি। আলজেজুর ও ভিলা দো বিসপোতেও বিদেশি নাগরিকের হার যথাক্রমে ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ ও ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, দেশে পরিবার পুনর্মিলনের ২৪ হাজার ৪৭৬টি আবেদন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকায় সামনে আরও অনেক বিদেশি নাগরিক পর্তুগালে আসতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ দেশ ছাড়ার নোটিশ পাওয়া মানুষের সংখ্যার পাশাপাশি পরিবার পুনর্মিলনের মাধ্যমে নতুন করে বিদেশি নাগরিক আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সূত্র : দ্য রেসিডেন্ট