শ্রীলংকার উত্তরাঞ্চলের জাফনার চেম্মানি এলাকায় একটি গণকবর থেকে শিশু ও নবজাতকসহ ৫৭২ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক দশক ধরে চলা দেশটির রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের পরিণতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এই আবিষ্কারের পর।
জাফনার চেম্মানি এলাকায় একটি শ্মশানঘাট সম্প্রসারণের জন্য মাটি খোঁড়ার সময় গত বছর প্রথম কঙ্কালগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়। পরে আদালতের নির্দেশে সেখানে প্রত্নতাত্ত্বিক ও ফরেনসিক তদন্ত শুরু হয়।
সম্প্রতি আগস্টে ওই গণকবরে খননকাজের তৃতীয় পর্যায় শেষ হয়েছে। এ পর্যায়সহ এখন পর্যন্ত সেখান থেকে ৫৭২ জনের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। কঙ্কালের পাশাপাশি চুড়ি, স্কুলব্যাগ ও শিশুদের দুধের বোতলসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রীও পাওয়া গেছে। এসব আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, নিহতদের মধ্যে নারী ও ছোট শিশুও ছিলেন।
উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের সংখ্যা বিবেচনায় চেম্মানির এই স্থানটি শ্রীলংকায় এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় গণকবর বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শ্রীলংকার সরকারি বাহিনী ও তামিল টাইগার্স বা এলটিটিইর মধ্যে ১৯৮৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ চলে। এতে প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হন। এখনো প্রায় ২৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে বিভিন্ন হিসাব রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই তামিল সম্প্রদায়ের।
১৯৯৫ সালে চেম্মানি এলাকা সরকারি নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর থেকেই সেখানে বেআইনি হত্যাকাণ্ড ও গুমের অভিযোগ করে আসছেন নিখোঁজদের স্বজনেরা। তবে অতীতের সরকারগুলো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
শ্রীলংকার মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, দেহাবশেষগুলো যেভাবে সমাহিত করা হয়েছে, তা প্রচলিত হিন্দু ধর্মীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রথার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে ঘটনাটি নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়েকের সরকার ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হবে। উদ্ধার করা কঙ্কালগুলো আদালতের তত্ত্বাবধানে জাফনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আরও উন্নত পরীক্ষার জন্য কিছু নমুনা বিদেশেও পাঠানো হবে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তদন্তকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে অতীতে বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তারা স্বাধীন, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের তদন্তের দাবি জানিয়েছে।