ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অর্থ প্রদানকে কেন্দ্র করে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের নাম বদলে বিজেপি সরকার চালু করা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আওতায় প্রতিশ্রুত ৩০০০ রুপি না পাওয়ার অভিযোগে কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় হাজার হাজার নারী আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ—সর্বত্রই রাস্তা ও রেলপথ অবরোধ এবং মন্ত্রীদের ঘেরাওয়ের মতো ঘটনা ঘটছে।
আন্দোলনের মূল কারণ নিহিত রয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া বিজেপির প্রতিশ্রুতির মধ্যে। তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে রাজ্যের নারীরা মাসে ১৫০০ রুপি করে পেতেন। নির্বাচনে জয়ী হলে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এই প্রকল্পের নাম বদলে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ করা হবে এবং মাসিক অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে ৩০০০ রুপি করা হবে।
কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই নীতি পরিবর্তন করে। সরকার জানায়, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ও স্বাবলম্বী পরিবারের নারীদের এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে না। এছাড়া টাকা পাওয়ার জন্য একাধিক জটিল ও কঠিন শর্তারোপ করা হয়। ফলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগীদের একটি বড় অংশ এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন, যা ব্যাপক গণবিক্ষোভের জন্ম দেয়।
উপভোক্তাদের অভিযোগ, সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও এবং আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পরেও তাদের অ্যাকাউন্টে প্রতিশ্রুত ৩ হাজার টাকা ঢোকেনি। সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হওয়ার পরই ক্ষুব্ধ নারীরা রাস্তায় নামেন।
কলকাতা: শহরের ফুলবাগান থানার সামনে এবং বেহালা চৌরাস্তায় মহিলারা রাস্তা অবরোধ করেন, যার ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
উত্তর ২৪ পরগনা: বিরাটিতে রেললাইনে নেমে অবরোধ করেন কয়েকশো নারী। এর ফলে শিয়ালদহগামী লোকাল ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ে এবং এক ঘণ্টারও বেশি সময় ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়। হাবড়াতেও পুরসভা এবং রেললাইনে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের দপ্তরে বৈঠক চলাকালীন বিক্ষোভের মুখে পড়েন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ছেড়ে নিচে নেমে আসেন এবং নারীদের অভাব-অভিযোগ শোনেন। তিনি আশ্বাস দেন যে, যাচাই প্রক্রিয়ায় কেন সমস্যা হয়েছে তা খতিয়ে দেখবেন এবং এসডিও বা বিডিও অফিসে সঠিক নথিপত্র জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন।
অন্যান্য জেলা: আলিপুরদুয়ারের ধূপগুড়িতে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় বিক্ষোভকারীদের। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ও বড়জোড়া, মালদাহর হরিশ্চন্দ্রপুর এবং হুগলির চণ্ডীতলাতেও বিডিও ও মহকুমাশাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ এবং পথ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। আন্দোলনকারী নারীদের একটাই দাবি— বারবার হয়রানি বন্ধ করে যোগ্য উপভোক্তাদের সকলকেই দ্রুত অর্থ প্রদান করতে হবে।
বিক্ষোভের মুখে বিজেপি সরকারের দাবি, আগস্টের ২২ তারিখ পর্যন্ত প্রায় এক কোটির বেশি নারীকে অর্থ প্রদানের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকিরাও খুব দ্রুত এই প্রকল্পের আওতায় চলে আসবেন।
তবে বিজেপি নেতা তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মন্তব্য বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, “লক্ষীর ভাণ্ডার নিয়ে অভ্যাস হয়ে গেছে। এটাও পরিষ্কার জানা উচিত, সব সুবিধা সবার জন্য নয়। কেন্দ্রীয় সরকার নানান প্রকল্প করেছে, রাজ্য সরকারও করেছে। তার একটা সীমা আছে। তার জন্য ক্রাইটেরিয়া ঠিক করা আছে। এর মধ্যে যারা পড়বেন তারা পাবেন। দানধ্যানে সবাইকে দেয়া হবে এই অভ্যাস খারাপ করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এটা সবাইকে বুঝতে হবে।”