যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে নিজেদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচ প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এই দেশগুলো তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়ে সার্বভৌমত্ববিরোধী হামলায় পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি গত সোমবার সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টের কাছে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ও ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ক্ষতিপূরণ দাবির তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান। চিঠিতে আমির সাঈদ ইরাভানি উল্লেখ করেন, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে এই দেশগুলোর ভূমিকা ছিল প্রত্যক্ষ। কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর হামলা চালাতে নিজেদের ভূমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার চরম লঙ্ঘন। ফলে এই হামলার কারণে ইরানের যে অপূরণীয় জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেই বহন করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সেই ভয়াবহ হামলায় কয়েক হাজার মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে তেহরানও ইসরায়েল, ইরাক, জর্ডান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালায়। দীর্ঘ উত্তেজনার পর গত সপ্তাহে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।
অস্থায়ী এই যুদ্ধবিরতির মাঝেই চলমান সংকট নিরসনে গত রোববার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমঝোতা ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টার মধ্যে ইরানের এই ক্ষতিপূরণের দাবি প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কের নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতির যে ক্ষীণ আশা তৈরি হয়েছিল, তা এই নতুন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।