৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত আমেরিকা-ইরান; কমতে শুরু করেছে তেলের দাম

রাতভর ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পর অবশেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে আমেরিকা ও ইরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর হবে যখন ইরান আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দিবে।

আমেরিকার শর্ত মেনে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, ইরান ও আমেরিকা এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

ওদিকে ইরানও দিয়েছে কঠিন সব শর্ত। যার মধ্যে রয়েছে, ইরানের ওপর ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন না করার নীতিগত নিশ্চয়তা; হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং নিরাপদ ট্রানজিট প্রটোকল প্রতিষ্ঠা; ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ মেনে নেওয়া এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আইএইএ-এর সব নেতিবাচক প্রস্তাব বাতিল করা।

এছাড়াও সব ধরনের প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দকৃত ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা; যুদ্ধের কারণে ইরানকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান; মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ প্রতিরোধ জোটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করা।

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর আমেরিকা এবং ইরান; উভয়পক্ষ নিজেদের বিজয়ী বলে ঘোষণা করেছে। যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন বলে জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তান সরকারের অনুরোধ এবং ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া দশ দফার একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রস্তাব আলোচনার একটি কার্যকর ভিত্তি হতে পারে।

যুদ্ধবিরতি ভেস্তে গেলে আমেরিকা আবার ইরানের বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করার অবস্থানে ফিরে যাবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, সেটা আপনারা দেখতে পাবেন।

ইরানিয়ান সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানায়, ঐতিহাসিক এবং বিধ্বংসী পরাজয় ভোগ করা শুরু করেছে শুত্রুপক্ষ। ইরান বড় বিজয় অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতির খবরে ইরানে সাধারণ নাগরিকদেরকে সড়কে নেমে আনন্দ মিছিল করতেও দেখা গেছে। যুদ্ধবিরতির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দপ্তার জানিয়েছে, ইরানে দুই সপ্তাহ হামলা না চালানোর যে সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়েছেন, সেটাকে ইতোমধ্যে সমর্থন করেছে ইসরাইল। তবে এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরই বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। যুদ্ধবিরতির খবর ছড়াতেই প্রথম এক ঘণ্টায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলার ৫০ সেন্টে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, দাম কমলেও আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরবে না বাজার। কারণ, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার।