৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আন্তর্জাতিক

পশ্চিমা দেশগুলো যেখানেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, সেখানেই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে : ইব্রাহিম ত্রাওরে

পশ্চিমা দেশগুলো যেখানেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, সেখানেই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে : ইব্রাহিম ত্রাওরে

এবার গণতন্ত্রের কড়া সমালোচনা করে বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে বলেছেন, পশ্চিমা ধাঁচে গণতন্ত্র আফ্রিকানদের জন্য নয় এবং এটি কেবল রক্তপাতই বয়ে আনে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের জনগণকে গণতন্ত্রের কথা ভুলে যাওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি গণতন্ত্রকে বুরকিনা ফাসে বর্তমান বিপ্লবী পরিস্থিতির জন্য বিপজ্জনক ও বিভাজনমূলক হিসেবে অভিহিত করেন।

২০২২ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা ৩৮ বছর বয়সী এই নেতা লিবিয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো যেখানেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, সেখানেই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। তিনি মুয়াম্মার গাদ্দাফির পরবর্তী লিবিয়ার অস্থিতিশীলতাকে গণতন্ত্রের ব্যর্থতার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন।

ত্রাওরে দাবি করেন, আফ্রিকার মানুষ এ ব্যবস্থা চায় না এবং বুরকিনা ফাসো এখন একটি বিকল্প ও সার্বভৌম ব্যবস্থার পথে হাঁটছে। যদিও নতুন শাসন ব্যবস্থার বিস্তারিত রূপরেখা তিনি প্রকাশ করেননি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি দেশপ্রেম, সার্বভৌমত্ব এবং তৃণমূল পর্যায়ের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।

ত্রাওরে ক্ষমতা নেওয়ার সময় ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মধ্যে গণতন্ত্রে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিলেও মে মাসে জান্তা সরকার তাদের শাসনের মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়িয়ে দেয়। গত জানুয়ারিতে দেশটিতে সব ধরনের রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। রাজনৈতিক নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে ত্রাওরে বলেন, আফ্রিকান রাজনীতিতে একজন সফল রাজনীতিবিদ মানেই হলো মিথ্যাবাদী ও চাটুকার। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় ঐক্য নষ্ট করে।

পাশ্চাত্যের প্রভাবমুক্ত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ত্রাওরের সরকার ফ্রান্সসহ পশ্চিমা শক্তিগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। পরিবর্তে তারা রাশিয়ার সাথে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, ত্রাওরের শাসনামলে সহিংসতা কমেনি। ২০২৩ সালে তার ক্ষমতা দখলের পর থেকে বুরকিনা ফাসোতে ১৮০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যার বড় অংশের জন্য জান্তা বাহিনী ও তাদের মিত্র মিলিশিয়াদের দায়ী করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও, ত্রাওরের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অবস্থান এবং প্যান-আফ্রিকান দৃষ্টিভঙ্গি তাকে মহাদেশটির অনেক তরুণের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। শেষমেশ ত্রাওরে কঠোর পরিশ্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, উন্নত দেশগুলোকে ধরতে হলে বুরকিনা ফাসোর মানুষকে চিরাচরিত কর্মঘণ্টার চেয়েও বেশি পরিশ্রম করতে হবে।