৩১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আরব দেশগুলোর কাছে ইরান যুদ্ধের খরচ চাইবেন ট্রাম্প

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার বিপুল ব্যয়ের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর কাছ থেকে আদায় করার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২৯ মার্চ) হোয়াইট হাউস-এর নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ-এর মতো এবারও যুদ্ধের ব্যয় মিত্র ও আরব দেশগুলোর বহন করা উচিত কি না—এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট আগ্রহী হতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি, তবে বিষয়টি তিনি বিবেচনায় রেখেছেন এবং শিগগিরই এ নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে পারেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে ইরাক কুয়েত আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত জোটে অংশ নেওয়া দেশগুলোর পাশাপাশি জার্মানি ও জাপান প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছিল, যা বর্তমান মূল্যে প্রায় ১৩৪ বিলিয়ন ডলারের সমান। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মিত্র বা আঞ্চলিক দেশগুলোকে না জানিয়েই একতরফাভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে।

মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। একটি গবেষণা সংস্থার হিসাব মতে, ১২তম দিনে এ ব্যয় বেড়ে ১৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে। যুদ্ধটি ৩১তম দিনে পৌঁছানোর পর মোট ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেন্টাগন-এর অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূরণ এবং সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারের বরাদ্দ চেয়েছে হোয়াইট হাউস।

এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম যুদ্ধের আগের তুলনায় ১ ডলারের বেশি বেড়ে বর্তমানে ৩ দশমিক ৯৯ ডলারে পৌঁছেছে।

তবে হোয়াইট হাউস দাবি করছে, এই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে ইরানের হুমকি মোকাবিলার সুফলের তুলনায় তেমন বড় বিষয় নয়। অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি এবং চলমান আলোচনার মাঝপথে তাদের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।