ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর চরমোনাই পীর মুফতী রেজাউল করীম বলেছেন, স্বাধীনতার লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, কিন্তু দেশ পরিচালনায় গত চুয়ান্ন বছরে সেগুলোর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের কারণে দেশ বারবার দুর্নীতিতে “ফার্স্ট” হয়েছে, বহু পরিবারের ক্ষতি হয়েছে, এবং এসব পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ইসলামের পক্ষে ভোটের বাক্স ও ইসলামের ইজ্জত রক্ষার কথা তুলে ধরেন।
চরমোনাই পীর বলেন, “যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে চুয়ান্ন বছর আগে দেশ স্বাধীন করতে গিয়ে লাখো মানুষ শাহাদাত বরণ করেছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তা হলো সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু যারা এ চুয়ান্ন বছর দেশ পরিচালনা করেছে, তাদের মাধ্যমে এর একটাও আমরা বাস্তবে দেখতে পাইনাই।”
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রামগঞ্জ পৌর শিশুপার্কে লক্ষীপুর-০১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব জাকির হোসেন পাটোয়ারীর সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন চরমোনাই পীর।
তিনি বলেন, “কিন্তু এদের পরিচালনার মাধ্যমে আমাদের সোনার বাংলাদেশ তামাম দুনিয়ার মধ্যে পাচ পাচবার চোরের দিক থেকে, দুর্নীতির দিক থেকে ফার্স্ট হয়েছে। হাজার হাজার মায়ের কোল খালি হয়েছে। এসব মায়েদের আর্তনাদ আর কতকাল শুনবো? এদেশকে আমরা দুর্নীতিতে কতবার চ্যাম্পিয়ন করবো? সন্তানগুলো পঙ্গু হবে, চক্ষু হারাবে আমাদের দেশের টাকা বিদেশে পাচার হবে, এটা আমরা কতদিন দেখব?”
চরমোনাই পীর আরও বলেন, “মহান আল্লাহ বলেছেন যে জাতি নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা না করে, আমি সে জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাই না। চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের পরে এদেশটাকে সুন্দরভাবে গড়ার একটা সুযোগ এসেছে।”
তিনি বলেন, “এ লক্ষ-উদ্দেশ্য নিয়ে যখন আমরা আওয়াজ তুলেছিলাম ইসলামের পক্ষে একটা বাক্স। সারা বাংলাদেশের মানুষের সারা ও উদ্দীপনা সেভাবে আমরা দেখতে পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে যখন আওয়াজ তুলেছিলো তখন একশ্রেণির ক্ষমতালোভী স্বার্থান্বেষী মহল ইসলামের পক্ষের বাক্সের পরিবর্তে তারা আবার ঘোষণা করলো ইসলামের নীতি আদর্শ অনুযায়ী তারা দেশ চালাবেনা, দেশ চালাবে প্রচলিত আইন এবং নীতি আদর্শের মাধ্যমে। তখন আমরা হতভম্ব হয়ে গেলাম।”
চরমোনাই পীর বলেন, “তখনই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যে ঘোষণা ছিলো ইসলামের পক্ষের বাক্স তা রক্ষার জন্যে, এবং ইসলামের ইজ্জতকে রক্ষার জন্যে হাতপাখা নিয়ে এককভাবে ২৫৮ আসনে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারই একটা অংশ লক্ষীপুর-০১ আসন।”
প্রার্থী আলহাজ্ব জাকির হোসেন পাটোয়ারীর বিষয়ে তিনি বলেন, “জাকির ভাইয়ের ব্যাপারে আলাদা করে বলার প্রয়োজন নাই, তবে যতটুকু জানি উনি একজন ভালো মানুষ।”
তিনি বলেন, “তাই আমি আলেম সমাজ, শিক্ষিত সমাজ, শ্রমিক, কৃষক, দিনমজুর, ছাত্র-যুবক ও মা বোনদের বলবো আপনারা যারা ইসলামকে ভালোবাসেন, দেশকে ভালোবাসেন, মানবতার পক্ষের লোক তারা সবাই হাতপাখায় ভোট দিন।”
তিনি আরও বলেন, “কোনোভাবেই নতুন শাড়ীতে পুরোনো লোকদের মাধ্যমে দেশে শান্তির আশা করা বোকামী। হাতপাখার প্রার্থীরা বিজয়ী হলে জন আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হবে। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশটাকে সোনার দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।”
তিনি অভিযোগ করেন, “তাই আসুন যারা ইসলামের নামে অনৈসলামিক কাজ করে। ইসলামের নাম দিয়ে গোপনে আমেরিকার সাথে গোপন বৈঠক করে এদের মাধ্যমে আমাদের দেশের মানুষ কখনো শান্তি পেতে পারেনা, শান্তি আসতে পারেনা।”
তিনি বলেন, “আজকে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের এখানে উপস্থিতি দেখে আমার মন বলছে, ইসলামের পক্ষের প্রার্থী, মানবতার কল্যাণের পক্ষের প্রার্থী এবং দেশকে যারা ভালোবাসে তাদের পক্ষের পার্থী হাতপাখার প্রার্থী আল্লাহর রহমতে বিজয়ী হবে।”
জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব জাকির হোসেন পাটোয়ারী দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের রামগঞ্জবাসীর ভোট ও দোয়া প্রত্যাশা করে বলেন, “আমি আপনাদের খাদেম হতে চাই।”