টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফি মন্দিরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ভারতে তৈরি হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কির্তি আজাদও বিষয়টির সমালোচনা করেছেন। এ নিয়ে কোচ গৌতম গাম্ভির ও ক্রিকেটার ইশার কিশান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান। এতে ভারতীয় ক্রিকেট অঙ্গনে শুরু হয় বিতর্ক।
১৯৮৩ সালে কাপির দেবের নেতৃত্বে ভারতের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন কীর্তি আজাদ। তিনি বলেন, ওই দলে বিভিন্ন ধর্মের খেলোয়াড় থাকায় ট্রফি মন্দিরে নেওয়া লজ্জাজনক।
এই বক্তব্য শুধু ক্রিকেট নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিতর্ক তৈরি করেছে।
৮ মার্চ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে ভারত। পরদিন ট্রফি নিয়ে আহমেদাবাদের একটি হনুমান মন্দিরে যান অধিনায়ক সৌর্য কুমার যাদব ও কোচ গৌতম গম্ভীর। সঙ্গে ছিলেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে কীর্তি আজাদ লিখেছেন, শেইম অন টিম ইন্ডিয়া। আমরা ১৯৮৩ সালে কপিল দেবের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জিতেছি। আমাদের টিমে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান ও শিখ ধর্মাবলম্বী মানুষ ছিলেন। আমরা ট্রফিটি আমাদের জন্মভূমি তথা মাতৃভূমি ভারতে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু এখন কেন ট্রফিকে মন্দিরে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? মসজিদ, চার্চ বা গুরুদ্বারাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না কেন?
আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহকে আক্রমণ করে তিনি লেখেন, দলটা ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে, জয় শাহের পরিবারের নয়।
ভারতের গৃহমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহের পুত্র।
পোস্টের শেষে কীর্তি আজাদ লেখেন, সিরাজ ট্রফিটিকে কখনো মসজিদে নিয়ে যাননি, সঞ্জু চার্চেও নিয়ে যাননি। ট্রফিটি সব ধর্মের ১৪০ কোটি ভারতীয়র। কোনও একটি ধর্মের নয়।
সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর পডকাস্টে গৌতম গম্ভীর বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, এই ব্যাপারে আমি আর কী বলব। এর উত্তর দেওয়া অপ্রয়োজন। এটাই বলতে পারি যে, এটি আমাদের দেশের জন্য একটি বিরাট বড় মুহূর্ত। আমার মনে হয়েছে কাপ জয়ের উৎসব পালন করা উচিত। এই প্রসঙ্গটি তোলা অনুচিত কারণ এতে টিম ইন্ডিয়ার জয়ের আনন্দকে ছোট করা হয়।
গৌতম গাম্ভির বলেন, আপনি যদি আমাদের ১৫ জন ছেলের জয়ের আনন্দকে খাটো করতে চান, কাল আবার অন্য কেউ নতুন কোনো বয়ান দেবে। এই সব বিষয়ে আমরা বেশি মাথা ঘামালে টিমের জন্য সেটা হিতকর নয়।
এই প্রসঙ্গে পাটনা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ঈশান কিষান বলেন, আমরা কত সুন্দর ম্যাচ জিতেছি। ভাল কিছু প্রশ্ন করুন। কীর্তি আজাদ কী বলেছেন তাতে আমি কী বলতে পারি?
কীর্তি আজাদকে সমর্থন দিয়ে কংগ্রেস সাংসদ তারিক আনোয়ার বলেন, কীর্তি একদম সঠিক বলেছেন। তাঁর সম্পূর্ণ বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত। ট্রফি নিয়ে মন্দির-মসজিদের মতো ধার্মিক জায়গায় যাওয়ার কোনো পরম্পরা আমাদের নেই। এটি ভুল পরম্পরার সূচনা করবে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেন, এটি কে করেছেন আমি জানি না, তবে ভারতের পরিচয় সনাতনী পরম্পরার সঙ্গেই যুক্ত। মুসলমান বা খ্রিস্টান ধর্মের সঙ্গে নয়।
শিবসেনা নেতা কৃষ্ণা হেগড়ে বলেন, এই ঘটনাকে ধর্মের সঙ্গে জুড়ে দেখাটা ঠিক নয়। জয় করা ট্রফি যেখানে খুশি নিয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা ভারতীয় টিমের আছে। এতে কীর্তি আজাদের অনুমতির দরকার নেই। এই রকম উস্কানিমূলক ভাষণ দিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ তৈরি করছেন। এটি করা উচিত নয়।
কীর্তি আজাদকে উদ্দেশ্য করে প্রাক্তন ক্রিকেটার ও আম আদমি পার্টির সাংসদ হারবজং সিং বলেন, ওঁর কথা শোনার কোনো প্রয়োজন নেই। খেলা আর রাজনীতিকে আলাদা রাখলেই ভাল। আপনি আপনার আস্থা অনুযায়ী মন্দির, মসজিদ, গুরুদ্বারা যেখানে খুশি যান। যদি তাঁরা (ভারতীয় টিমের কোচ ও ক্যাপ্টেন) কোথাও গিয়ে থাকেন সেটা তাঁদের নিজস্ব ইচ্ছা।