১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান সংক্রান্ত ইস্যুতে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সদস্যরা।

বুধবার (০১ এপ্রিল) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সংবিধান সংস্কার ও গণভোট ইস্যুতে গতকাল দীর্ঘ আলোচনা হলেও বিষয়টির কোনো সুনির্দিষ্ট নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধী দল। এ বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত বা প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তারা ওয়াকআউট করেন।

সংসদের অনির্ধারিত আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে তার আগের বক্তব্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তিনি বলেন, “আমাদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করা।”

তিনি আরও জানান, সংকট সমাধানে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের সমান সংখ্যক সদস্য রাখার সুপারিশ করা হয়। “আমরা নতুন সংকট তৈরি করতে নয়, বিদ্যমান সংকট সমাধান করতে এসেছি,” বলেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের মতামতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। “এটি জনগণের রায়ের যথাযথ মূল্যায়ন নয়,” উল্লেখ করে তিনি ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বিরোধী দলকে ওয়াকআউট না করে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রস্তাবটি একটি মুলতবি প্রস্তাব ছিল এবং সংসদে বিরোধী দলকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিতেই এটি গৃহীত হয়েছে।

স্পিকার আরও বলেন, সংসদে আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে বিরোধী দল তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবে। তিনি বিরোধী দলকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান।

তবে বিরোধীদলীয় নেতা দাবি করেন, নতুন নোটিশটি মূল ইস্যুকে আড়াল করার কৌশল। এর প্রতিবাদেই তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।

পরবর্তীতে বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবটি প্রক্রিয়াগতভাবে সঠিক ছিল না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, যে বিষয় কেবল আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য, তা মুলতবি প্রস্তাবের আওতায় আনা যায় না এবং এ ধরনের প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির বিধানও নেই।

তিনি আরও বলেন, স্পিকার বিরোধী দলকে আলোচনার সুযোগ দিলেও এ প্রস্তাবের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি সুযোগ ছিল না।

এরপর স্পিকার দিনের পরবর্তী কার্যসূচি এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন।