১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মার্কিন তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানের হামলায় নিহত ১

পারস্য উপসাগরে অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী নৌযানের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। এরই অংশ হিসেবে বুধবার রাতে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। হামলায় একটি মার্কিন মালিকানাধীন ট্যাঙ্কারে একজন নাবিক নিহত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, হামলার পর ইরান একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যায়, একটি বিস্ফোরকবোঝাই নৌকা ইরাকি জলসীমায় একটি মার্কিন মালিকানাধীন তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আঘাত হানছে। বুধবার রাতে আক্রান্ত হওয়া দুটি জ্বালানি ট্যাঙ্কারের মধ্যে এটি একটি। ওই হামলায় অন্তত একজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন।

এদিকে দ্য টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, পুরো অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলা অব্যাহত থাকায় পারস্য উপসাগরে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আক্রান্ত হয়েছে এবং এতে একজন নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইসরায়েল দাবি করেছে যে তারা তেহরানের কাছে ইরানের একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এই হামলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের ধারাবাহিকতায়।

এর জবাবে ইরানও ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। বুধবার রাতে লেবাননভিত্তিক তাদের মিত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ–র সঙ্গে সমন্বয় করে হামলার পর যুদ্ধের ১৩তম দিন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত পাঁচ দফায় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পুরো সময়জুড়েই ইরান অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং বিশ্ব তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাজারে তাদের তেলের মজুদ ছাড়লেও সাম্প্রতিক এই ট্যাঙ্কার হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি আরব দেশ জানিয়েছে, তাদের আবাসিক এলাকা ও কূটনৈতিক অঞ্চলের দিকে ছোড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে।