মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। গত মঙ্গলবার বোর্ড মিটিংয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। এর মাধ্যমে বোয়িংয়ের সঙ্গে মূল্য ও শর্তাবলি নির্ধারণে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ উন্মুক্ত হলো।
বিমানের বোর্ড সভা সূত্রে জানা গেছে, বোয়িংয়ের প্রস্তাবিত দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯, আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ কেনার প্রাথমিক সম্মতি দেওয়া হয়েছে। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. শফিকুর রহমান বোয়িং কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, এই অনুমোদনটি আলোচনার একটি আনুষ্ঠানিক সূচনা মাত্র এবং চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বিমান কোনো আর্থিক বা আইনি দায়ে আবদ্ধ থাকবে না।
উড়োজাহাজ ক্রয়ের এই বড় উদ্যোগটি কেবল বহর সম্প্রসারণই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের একটি কৌশলগত অংশ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ক্রয়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং রপ্তানি শুল্ক সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়া সহজ হবে।
এর আগে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছিলেন, পাল্টা শুল্ক নিয়ে দর কষাকষির অংশ হিসেবে মোট ২৫টি বিমান কেনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে বোয়িংয়ের পাশাপাশি ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারবাস’ বিক্রির জন্যও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, যা নিয়ে খোদ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গেও আলোচনা করেছেন বিদেশি কূটনীতিকরা।
এখন বিমানের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে, যারা বোয়িংয়ের সঙ্গে দরদাম ও কারিগরি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করবে। এই বহর সম্প্রসারণের কাজ সফল হলে আন্তর্জাতিক রুটে বিমানের সক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।