২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাতীয়

বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের দাওরাকে স্বীকৃতি দিতে নারাজ আল-হাইআতুল উলয়া

বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের দাওরাকে স্বীকৃতি দিতে নারাজ আল-হাইআতুল উলয়া

বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের দাওরায়ে হাদীসকে আলাদাভাবে মাস্টার্স সমমান স্বীকৃতি প্রদানের কোনো সুযোগ, প্রয়োজন কিংবা যৌক্তিকতা নেই বলে জানিয়েছে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে অনুষ্ঠিত এক সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার প্রতিনিধিগণ এ মতামত তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের আবেদনের প্রেক্ষিতে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালের ৪৮ নম্বর আইনের মাধ্যমে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদীস সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশকে দিয়েছে। ফলে আইন অনুযায়ী দাওরায়ে হাদীস বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কিছু করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে আইনে নির্ধারিত ছয়টি বোর্ডের বাইরে নতুন কোনো বোর্ডকে আল-হাইআতুল উলয়ার অন্তর্ভুক্ত করারও সুযোগ নেই বলে তিনি জানান।

সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসানের লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। এতে কো-চেয়ারম্যান মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ছয়টি বোর্ডের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। লিখিত বক্তব্যটি পাঠ করেন মাওলানা মাহফুজুল হক।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, “আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ আইন, ২০১৮” অনুযায়ী আল-হাইআতুল উলয়ার অধীনে সর্বোচ্চ ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড থাকার বিধান রয়েছে। এই বোর্ডগুলোর মাধ্যমেই নিবন্ধিত কওমি মাদরাসাগুলোতে দাওরায়ে হাদীস শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এছাড়া আইনের ধারা অনুযায়ী দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) সনদের শিক্ষার মান নিশ্চিত করা, পরীক্ষা গ্রহণ ও তত্ত্বাবধান, সিলেবাস প্রণয়ন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ফলাফল ও সনদ প্রদানসহ যাবতীয় কার্যক্রমের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ আল-হাইআতুল উলয়া।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাওরা মাদরাসাগুলো আল-হাইআতুল উলয়া গঠনের শুরু থেকেই বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছে। তারা ইতোমধ্যে মাস্টার্স সমমানের সনদও পেয়ে আসছে এবং চলমান ২০২৬ সালের পরীক্ষাতেও অংশগ্রহণ করছে। ফলে আলাদাভাবে মাস্টার্স সমমান স্বীকৃতি প্রদানের কোনো প্রয়োজন বা যৌক্তিকতা নেই বলে মত দেন প্রতিনিধিগণ।

সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার নেতৃবৃন্দ জানান, ২০১৭ সালে আল-হাইআতুল উলয়া গঠনের সময় আইন দ্বারা নির্ধারিত ছয়টি বোর্ড ছাড়া অন্য কোনো বোর্ড অন্তর্ভুক্তির আবেদন কিংবা প্রেক্ষাপটও ছিল না।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, আল-হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমান, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধি মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা এনামুল হক (সিলেট), মুফতি এনামুল হক (বসুন্ধরা), মুফতি মোহাম্মদ আলী ও মাওলানা মুহাম্মদ অছিউর রহমান।

সভা শেষে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের দাওরায়ে হাদীস, ফযীলত ও সানাবিয়্যা উলয়া স্তরের মাদরাসাগুলো যেহেতু বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের অধিভুক্ত, তাই ভবিষ্যতে বেফাক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।