৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরানের গোপন সামরিক শক্তি: দুর্ধর্ষ সাবেরিন ও নোহেদ বিশেষ বাহিনী

ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা উঠলেই সাধারণত কুদস ফোর্স-এর নাম সামনে আসে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে আরও কিছু কম আলোচিত বিশেষ বাহিনীর ওপর।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কোনো দ্বীপ, বন্দর বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দ্রুত অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে ইরান একটি বিকেন্দ্রীকৃত বিশেষ বাহিনী কাঠামোর ওপর নির্ভর করে, যা একাধিক সামরিক ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর স্থল বাহিনীর অন্যতম প্রধান শক্তি হলো ‘সাবেরিন’। এটি কোনো একক ইউনিট নয়, বরং একটি বিশেষ দক্ষতা-নির্ভর কাঠামো, যা বিভিন্ন আঞ্চলিক ইউনিটে বিস্তৃত। দুর্গম এলাকায় অভিযান, হেলিকপ্টার থেকে অবতরণ এবং অতর্কিত হামলায় এরা পারদর্শী। অভিযানের পর স্থানীয় পরিবেশে অবস্থান করে কাজ চালিয়ে যাওয়াও এদের বৈশিষ্ট্য।

অন্যদিকে, ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী আর্তেশ-এর অধীনে থাকা ৬৫তম এয়ারবর্ন স্পেশাল ফোর্সেস ব্রিগেড, যা ‘নোহেদ’ নামে পরিচিত, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও সরাসরি অভিযানে দক্ষ। ২০১৬ সালে সিরিয়া-তে এদের মোতায়েন ইরানের সামরিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

এছাড়া পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের উপস্থিতি বজায় রাখতে আইআরজিসির নৌবাহিনীর বিশেষ শাখা ‘এসএনএসএফ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমুদ্রে জাহাজ জব্দ করা বা কৌশলগত জলসীমায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় এই বাহিনী সক্রিয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাসিজ বাহিনী-এর কিছু ইউনিট, বিশেষ করে ‘ফাতেহিন’, উচ্চ প্রশিক্ষিত এবং বড় ধরনের সংঘাতে সহায়ক বাহিনী হিসেবে কাজ করে। স্থানীয় তথ্য সংগ্রহ ও অতিরিক্ত জনবল সরবরাহে এদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই বিশেষ বাহিনী কাঠামো পশ্চিমা দেশের নেভি সিল টিম সিক্স বা ডেল্টা ফোর্স-এর মতো একক ইউনিটভিত্তিক নয়। বরং এটি একটি বহুস্তরভিত্তিক সমন্বিত ব্যবস্থা, যেখানে বিভিন্ন বাহিনী পর্যায়ক্রমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও পাল্টা আক্রমণে অংশ নেয়।

এ কারণে এই বাহিনীগুলো আলোচনায় তুলনামূলক কম এলেও, তাদের বিকেন্দ্রীকৃত ও জটিল কাঠামোই ইরানের সামরিক শক্তিকে আরও কার্যকর ও দুর্ভেদ্য করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।