পতুর্গালের লিসবনের দামাইয়া-আমাদোরা এলাকায় মঙ্গলবার, (১৭ ফেব্রুয়ারি), মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন হিসেবে চিহ্নিত হলো। স্থানীয় উদ্যোক্তা মোঃ মিটন চৌধুরী ও মোঃ রকিবুল হাসান উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত নতুন মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়। কমিউনিটি নেতারা মনে করছেন, এটি কেবল প্রার্থনার স্থান নয়, বরং ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক কার্যক্রম এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোর কেন্দ্র হিসেবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ, বাইতুল মুকাররম জামে মসজিদের প্রধান ইমাম ও খতিব, অধ্যাপক মুফতি মাওলানা আবু সাঈদ। উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন, মসজিদটি একটি শারীরিক কাঠামো নয়, বরং এটি আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা, সামাজিক সম্পর্ক ও নৈতিক মানদণ্ডের একটি কেন্দ্র। কমিউনিটির ঐক্য এবং সহযোগিতা এই মসজিদের মাধ্যমে আরও দৃঢ় হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ছানী ইমাম ও খতিব, ক্বারী মাওলানা কায়েছ আহমদ আব্দুল্লাহ, কাসকাইস জামে মসজিদের সাবেক ইমাম ও খতিব মাওলানা আব্দুল ফাত্তাহ, মাওলানা আব্দুল মালিক, মাওলানা বদরুল আলম, এবং অ্যাডভোকেট নুরুল আবেদিন। তারা কমিউনিটির ঐক্য, সামাজিক কার্যক্রম এবং ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে মসজিদের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। ক্বারী মাওলানা কায়েছ আহমদ আব্দুল্লাহ বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, যেখানে ধর্ম, শিক্ষা এবং সামাজিক কার্যক্রম একত্রিত হয়, সেখানে সমাজের সত্যিকারের উন্নয়ন সম্ভব। এই মসজিদ তা নিশ্চিত করবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সমাজসেবী ও শিক্ষাবিদরা। রানা তাসলিম উদ্দিন, বদিউর জামাল ফকির, ম হাকিম মিনহাজ, শাহান মীর, মির্জা মেহেদী হাসান, এবং প্রফেসর রিয়াল ফেরদৌস। তারা সবাই মসজিদের কার্যক্রম, যুব সমাজের অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দামাইয়া-আমাদোরা অঞ্চলের মুসলিম সম্প্রদায়ের ইতিহাস বহু প্রজন্ম ধরে শিক্ষাদীক্ষা, ধর্মীয় কার্যক্রম এবং সামাজিক সহায়তার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা বজায় রেখে এসেছে। এই মসজিদ ঐতিহ্যকে ধরে রাখবে এবং যুব সমাজের জন্য শিক্ষাগত ও সামাজিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
বর্তমান সময়ে লিসবনের মুসলিম সম্প্রদায় বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষাগত এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আধুনিক সমাজে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সমন্বয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। এই মসজিদ যুবকদের জন্য ইসলামিক শিক্ষা, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম এবং সামাজিক সহায়তার সুযোগ প্রদান করবে, যা ভবিষ্যতে একটি সচেতন ও শক্তিশালী কমিউনিটি গঠনে সহায়তা করবে।
উদ্যোক্তা মোঃ মিটন চৌধুরী বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি স্থাপনা তৈরি করা নয়, বরং এটি এমন একটি কেন্দ্র হবে যেখানে মানুষ মিলিত হবে, শিখবে এবং সমাজের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। আমাদের কমিউনিটি যেন আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হয়, এটাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
মসজিদটি কেবল প্রার্থনার স্থান হিসেবে নয়, বরং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে কমিউনিটির অন্তর্ভুক্তি ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে। কমিউনিটি লিডাররা আশা করছেন যে, স্থানীয় মুসলিম যুবকরা এখানে ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়াও সমাজসেবা, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হবে। এটি যুব সমাজকে শিক্ষিত, নৈতিক এবং সামাজিকভাবে সক্রিয় সদস্য হিসেবে গড়ে তুলবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে কমিউনিটি নেতারা সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং সামাজিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্বারোপ করেন। নতুন মসজিদটি লিসবন অঞ্চলের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে, যেখানে ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য একত্রিত হবে।
এছাড়া স্থানীয় সমাজে মুসলিম সম্প্রদায় বিভিন্ন সামাজিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে নিজেদের ভূমিকা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এই মসজিদ সেই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবে, যেখানে ধর্মীয় শিক্ষা এবং সামাজিক দায়িত্ব একসাথে শিক্ষিত এবং সক্রিয় কমিউনিটি গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। লিসবনের মুসলিম যুবকরা এই কেন্দ্রের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা, নেতৃত্ব এবং কমিউনিটির কল্যাণে অবদান রাখতে পারবে।
নির্মিত মসজিদটি ভবিষ্যতে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সামাজিক, শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, যা লিসবনসহ ইউরোপের মুসলিম কমিউনিটির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হবে।