৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইউরোপ

ঝড়ের পাঁচ দিন পরও পর্তুগালে বিদ্যুৎহীন প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহক, জরুরি বৈঠকে সরকার

ঝড়ের পাঁচ দিন পরও পর্তুগালে বিদ্যুৎহীন প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহক, জরুরি বৈঠকে সরকার

পর্তুগালের মূল ভূখণ্ডে তীব্র ঝড় ‘ক্রিস্টিন’-এর আঘাতের পাঁচ দিন পার হলেও এখনো প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা পর্যন্ত এই বিপুলসংখ্যক গ্রাহক অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ই-রেডেস। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লেইরিয়া জেলা।

ই-রেডেসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৭ হাজার গ্রাহকের সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বর্তমানে লেইরিয়া জেলায় প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। পাশাপাশি সান্তারেম, কোইম্বরা ও কাস্টেলো ব্রাঙ্কোসহ মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি জেলাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে।

ই-রেডেস জানিয়েছে, এখানে ‘গ্রাহক’ বলতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা দোকানকে বোঝানো হয়। ফলে প্রকৃতপক্ষে কত মানুষের জীবন এই সংকটে প্রভাবিত হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। উল্লেখ্য, ঝড়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এক সময় প্রায় ১০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে পর্তুগালের অন্যতম বড় অবকাঠামোগত বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঝড়ের তাণ্ডবে শুধু বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নয়, সড়ক, রেলপথ, যোগাযোগব্যবস্থা ও ঘরবাড়িরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বহু এলাকায় গাছ উপড়ে পড়া, বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যাওয়া ও তার ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে মেরামতকাজে বিলম্ব হচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, ঝড় ‘ক্রিস্টিন’-এর ফলে এখন পর্যন্ত অন্তত নয় জন নিহত হয়েছেন। আহত ও গৃহহীন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। লেইরিয়ার মারিনিয়া গ্রান্ডে ও বাতাল্যা পৌরসভায় অতিরিক্ত প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার গত বুধবার রাত থেকে আজ ১ ফেব্রুয়ারি রাত পর্যন্ত প্রায় ৬০টি পৌরসভায় ‘সিতুয়াসাঁও দি কালামিদাদে’ বা দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে। এটি সিভিল প্রোটেকশন আইনের আওতায় সর্বোচ্চ স্তরের হস্তক্ষেপমূলক ব্যবস্থা। এই সময়ে উদ্ধার, পুনর্বাসন ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ জোরদার করতে সিভিল প্রোটেকশন বিভাগ, সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো একযোগে কাজ করছে।

এদিকে রবিবার সরকার একটি জরুরি মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে বসেছে। বৈঠকে দুর্যোগ পরিস্থিতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ ও অবকাঠামোর জন্য অতিরিক্ত সহায়তা এবং পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে বিকেলে সিভিল প্রোটেকশনের জাতীয় কমিশনেরও বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যার সভাপতিত্ব করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া লুসিয়া আমারাল।

এর মধ্যেই আবহাওয়া দপ্তর আইপিএমএ আগামী সপ্তাহজুড়ে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে নতুন করে টানা বৃষ্টিপাত এবং সাগরে প্রবল ঢেউয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের কাজ আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।