ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় উন্মুল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার একটি একতলা ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের ভেতরে থাকা কোনো বিস্ফোরক জাতীয় কেমিক্যাল থেকে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি তদন্তে র্যাব ও সিআইডির বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, হঠাৎ বিকট শব্দের সঙ্গে একটি ইটের মতো বস্তু তার মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভবনের মালিক পারভিন বেগম জানান, ২০২২ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। পরে মুফতি হারুন নামে এক ব্যক্তি মাদ্রাসা পরিচালনার উদ্দেশে ভবনটি ভাড়া নেন। প্রায় তিন বছর ধরে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করা হচ্ছিল। আলামিন ও তার স্ত্রী আছিয়া মাদরাসার শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। মুফতি হারুন মাঝে মধ্যে সেখানে আসতেন।
বিস্ফোরণে মাদরাসা ভবনের আসবাবপত্র, জানালার কাঁচ ভেঙে যায় এবং দেয়ালের একটি অংশ উড়ে যায়। আশপাশে কাঁচ ও দেয়ালের টুকরা ছড়িয়ে পড়ে। পাশের মোহাম্মদ হোসেনের মালিকানাধীন ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ঘটনায় মাদরাসাশিক্ষক আলামিনের দুই ছেলে উমায়েদ (১০) ও আবদুল্লাহ (৮), মেয়ে রাবেয়া (৬) এবং পাশের একটি সিএনজি গ্যারেজের শ্রমিক জাকির হোসেন (৪৫) গুরুতর আহত হয়েছেন।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল আলম এই প্রসঙ্গে বলেন, প্রথমে গ্যাস বিস্ফোরণের কথা শোনা গেলেও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা গেছে- গ্যাস সিলিন্ডার অক্ষত রয়েছে। এটি গ্যাস বিস্ফোরণ নয়। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।