ইতালির বিখ্যাত পর্যটন নগরী ভেনিসে অবৈধভাবে পণ্য বিক্রির অভিযোগে তিন বাংলাদেশি হকারকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করেছে স্থানীয় পুলিশ। ভেনিসের ঐতিহাসিক ও পর্যটনসমৃদ্ধ এলাকাগুলোতে অবৈধ হকারি ও অননুমোদিত ব্যবসা কার্যক্রম দমনে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভেনিসের ব্যস্ত পর্যটন এলাকায় ফুটপাত ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে অনুমোদনহীনভাবে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছিলেন ওই তিনজন। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে বিক্রয়ের জন্য রাখা পণ্য জব্দ করা হয় এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা হয়। জরিমানার অঙ্ক ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হলেও, ইতালির স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে তা কয়েক হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।
ভেনিস সিটি কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ বলছে, ঐতিহাসিক শহরের সৌন্দর্য রক্ষা, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অবৈধ হকারির বিরুদ্ধে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে এগোচ্ছে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে শহরে ভিড় বাড়লে অবৈধ বিক্রি ও অননুমোদিত কার্যক্রমও বেড়ে যায়, যা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টহল ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
ইতালির আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত অনুমতি ছাড়া জনসাধারণের স্থানে পণ্য বিক্রি করলে জরিমানা ছাড়াও পণ্য জব্দ, পুনরাবৃত্ত অপরাধে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বা আইনি জটিলতায় পড়ার ঝুঁকি থাকে। কিছু ক্ষেত্রে অভিবাসন সংক্রান্ত কাগজপত্রে সমস্যা থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাষাগত বাধা, বৈধ কাজের সুযোগের সীমাবদ্ধতা ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক প্রবাসী অবৈধ হকারিতে জড়িয়ে পড়েন। তবে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে, বিশেষ করে ইতালির পর্যটন নগরীগুলোতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ দিন দিন কঠোর হচ্ছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় আইন-কানুন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিয়ে বৈধ কাজের পথ বেছে নেওয়াই নিরাপদ। অবৈধ হকারিতে জড়ালে বড় অঙ্কের জরিমানা তো বটেই, ভবিষ্যতে বসবাস বা কাজের অনুমতি নিয়েও জটিলতায় পড়তে হতে পারে।