৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ খ্রিস্টানদের ইস্টার সানডে

ইস্টার সানডে হলো খ্রিস্টিয় ক্যালেন্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। খ্রিস্টানরা আজকের এইদিনে মৃত্যুর বিরুদ্ধে যিশুখ্রিস্টের বিজয় উদযাপন করে। খ্রিস্টে বিশ্বাসীদের কাছে এটি পুরাতন জীবনের অবসানের পরে নতুন জীবন শুরুর প্রতীক।

খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব হলো ক্রিসমাস বা বড়দিন, আর ঠিক এর পরেই আছে ইস্টার। গুড ফ্রাইডের ঠিক পরের রোববারই হলো ইস্টার সানডে। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মতে, ‘এ দিন খ্রিস্ট ধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিস্ট মৃত্যু থেকে পুনরুত্থান করেছিলেন। গুড ফ্রাইডেতে বিপথগামী ইহুদিরা তাকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করেছিল। মৃত্যুর তৃতীয় দিবস অর্থাৎ রোববার দিন তিনি মৃত্যু থেকে জেগে উঠেছিলেন। মৃত্যুকে জয় করে যিশু আবারও মানুষের মাঝে ফিরে আসেন।’

ইস্টার সানডে হলো যিশুর পুনরুত্থানের দিন। তাই গোটা বিশ্বের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষজন অত্যন্ত উৎহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে এই দিনটা পালন করে থাকেন। খ্রিস্টীয় ধর্মবিশ্বাসের মূল ভিত্তি হলো, যিশুর ক্রুশে জীবনদান এবং গৌরবদীপ্ত পুনরুজ্জীবন। মানুষের সেবায় নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে সত্য ও সুন্দরের পথে এগিয়ে যাওয়াই ইস্টার সানডে বা যিশুর পুনরুত্থান দিবসের মূল বাণী।

ইস্টার সানডে উপলক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী খ্রিস্টবিশ্বাসী বেশ কয়েকদিন ধরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান-সহ নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে। ইস্টারের দিনক্ষণ নিয়ে শুরুর দিকে নানা মত প্রচলিত ছিল। ‘স্প্রিং ইকুইনক্স’ বা মহাবিষুব-এর সময় এই উৎসব পালন করা হত। যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার বছর নিয়েও মতান্তর রয়েছে। দুটি মতবাদ অনুসারে ৩৩ খ্রিস্টাব্দে ক্রুশবিদ্ধ হন। তবে স্যার আইজাক নিউটন গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি মেপে সময়টাকে ৩৪ খ্রিস্টাব্দ বলে দাবি করেছিলেন।

বড়দিনের মতো ইস্টার সানডে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো তারিখে পালিত হয় না। বলা হয়, ২১ মার্চের পর যখন আকাশে প্রথম দেখা যায় পূর্ণ চাঁদ, তার পরের রোববার পালন করা হয় ইস্টার। মূলত গ্রেগরিয়ান এবং জুলিয়ান ক্যালেন্ডার-সহ বেশ কয়েকটি দিনপঞ্জিকার হিসেব মিলিয়ে বের করা হয় ইস্টারের তারিখ, যা ৪ এপ্রিল থেকে ৮ মের মধ্যে যে কোনো সময় হতে পারে। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের বাইরে এইদিন যিশুর পুনঃজন্মের প্রতীক হিসেবে এদিন ‘ইস্টার এগ’ বিতরণ করা হয়। যেগুলোতে নানা রঙ দিয়ে কারুকার্য করা হয়। আজকাল চকোলেট দিয়েও তৈরি ডিম্বাকৃতির এই ‘ইস্টার এগ’ বিতরণ করা হয়ে থাকে। ছোটদের জন্য রোববার রাস্তায় রাস্তায় ‘ইস্টার বানি’ সেজে ঘুরে বেড়ানোর প্রথা রয়েছে-তারা ছোটদের চকোলেট এগ উপহার দেয়। এছাড়া নানান জায়গায় ইস্টার এগ নিয়ে মজার খেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে।