১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৪৫৬টি মাদরাসার সরকারি তহবিলের অনুদান বন্ধ করল উত্তরাখণ্ড সরকার

২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে রাজ্যের ৪৫৬টি মাদরাসায় দেওয়া সরকারি অনুদান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের উত্তরাখণ্ড সরকার। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নেতৃত্বাধীন রাজ্য মন্ত্রিসভা এ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মুসলিম মিররের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

সরকারের দাবি, মাদরাসা বোর্ড বিলুপ্ত হওয়ার কারণে অনুদান ব্যবস্থা আর প্রয়োজন নেই। এখন থেকে শুধু উত্তরাখণ্ড স্টেট মাইনরিটি এডুকেশন অথরিটির স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হতে পারবে।

উত্তরাখণ্ড সংখ্যালঘু শিক্ষা আইন এবং নতুন স্বীকৃতি বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পর মাদরাসা বোর্ডের জায়গায় উত্তরাখণ্ড স্টেট মাইনরিটি এডুকেশন অথরিটি দায়িত্ব নিয়েছে। এখন এই সংস্থাই সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করবে।

মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের অতিরিক্ত সচিব বানসিধর তিওয়ারি বলেন, মাদরাসা বোর্ড ১ জুলাই থেকে বিলুপ্ত হওয়ায় এর অধীনে দেওয়া অনুদান এবং এ খাতে বাজেট বরাদ্দের আর প্রয়োজন নেই। তাই ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে এই অনুদান বন্ধ করা হবে।

এই পরিবর্তনের ফলে মাদরাসাগুলোর প্রচলিত সনদ সরকারি চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে আর গ্রহণযোগ্য হবে না। রাজ্য সরকারের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের উত্তরাখণ্ড শিক্ষা বোর্ডের আওতায় আনা হলে তারা মূলধারার শিক্ষা এবং সরকারি চাকরির জন্য স্বীকৃত সনদ পাবে।

সংখ্যালঘু কল্যাণ বিভাগের বিশেষ সচিব ড. প্রগ মধুকর ঢাকাতে বলেন, আগে মাদরাসা বোর্ডের মাধ্যমে যে অনুদান দেওয়া হতো, তা বন্ধ করা হয়েছে। তবে নতুন কর্তৃপক্ষের স্বীকৃত মাদরাসাগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের ইউ-ডাইস কর্মসূচির সুবিধা পাবে।

রাজ্য সরকারের দাবি, নতুন এই ব্যবস্থা সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল করবে এবং শিক্ষার মান উন্নত করবে।

এদিকে সরকারের এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতারা। তাদের অভিযোগ, এটি সংখ্যালঘুদের শিক্ষার অধিকার ক্ষুণ্ন করছে এবং ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে।

অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি মাওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভি বেরেলভি বলেন, সরকার মুসলিম তরুণদের ধর্মীয় শিক্ষা ও উন্নতির সুযোগ সীমিত করতে চায়। এর আগে প্রায় ১৫০টি অননুমোদিত মাদরাসা বন্ধ এবং মাদরাসা বোর্ড বিলুপ্ত করা হয়েছিল। অনুদান বন্ধের সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জামায়াতে ইসলামী হিন্দের সহসভাপতি মোহাম্মদ সালিম ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ভারতের সংবিধান প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার দিয়েছে। তার দাবি, স্বীকৃত মাদরাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি হিন্দি, ইংরেজিসহ অন্যান্য সাধারণ বিষয়ও পড়ানো হয়, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য জিয়াউর রহমান বারকও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, এটি সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। সরকারের উচিত সব সম্প্রদায়ের প্রতি সমান আচরণ করা।

অন্যদিকে অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাওলানা সাজিদ রশিদি বলেন, যেসব মাদরাসা যাকাত ও জনগণের অনুদানে পরিচালিত হয়, সেগুলোর ওপর এই সিদ্ধান্তের তেমন প্রভাব পড়বে না। কারণ এসব প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুদান বা সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের ওপর নির্ভরশীল নয়। তাদের শুধু প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত থাকলেই হবে।

সূত্র : মুসলিম মিরর

Home R3