৩রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করার প্রস্তাব ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম প্রধান কৌশলগত জ্বালানি নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’র নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অদ্ভুত প্রস্তাব তুলে ধরেন।

পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “যেহেতু এটি এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, তাই হরমুজ প্রণালির নাম কি ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করা উচিত? নতুন নামটি আমেরিকার মতোই আরও বেশি ‘উত্তপ্ত’ হবে।” পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকেও ট্রাম্পের সেই বক্তব্য সম্বলিত একটি মানচিত্র পোস্ট করা হয়, যেখানে হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

একই দিনে হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, এই নৌপথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা তাদের ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতিদিন মিলিয়ন মিলিয়ন ব্যারেল তেলবাহী জাহাজ সেখান দিয়ে নিরাপদে পার করা হচ্ছে। ইরানিরা ড্রোন ছোড়ার চেষ্টা করলেই তা ভূপাতিত করা হচ্ছে।” তবে ওয়াশিংটনের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে নৌপথটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা জানিয়েছে তেহরান।

ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের এমন বিতর্কিত উদ্যোগ ট্রাম্পের জন্য নতুন নয়। এর আগে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যবিরোধের জেরে ‘লেক অন্টারিও’র নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ এবং দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নিয়ে প্রথম দিনেই মেক্সিকো উপসাগরের নাম ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তবে আন্তর্জাতিক সীমানা ও আন্তর্জাতিক মেরিটাইম আইনের কারণে একতরফাভাবে এমন নাম পরিবর্তন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। সংঘাতের পূর্বে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশেরও বেশি এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হতো।

Home R3