বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের ডেপুটি পার্লামেন্ট স্পিকার হাজি বাবাই বলেছেন, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে এবং এ পথে চলাচলের জন্য টোল ইরানি মুদ্রা রিয়ালে পরিশোধ করতে হবে।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী আলোচনার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গটি সামনে আসে। যদিও ওই ব্রিফিংয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সরাসরি হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে মন্তব্য করেননি।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলমান সংকটের মধ্যে এ পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
মেহের নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে জানা যায়, ইরানের জন্য হরমুজ প্রণালী একটি ‘রেড লাইন’। হাজি বাবাই সতর্ক করে বলেন, এই প্রণালী দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের নীতিমালা মানতে হবে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, প্রণালীটি শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তাদের দুটি ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে এবং এটি ছিল সমুদ্রপথে মাইন অপসারণের একটি বড় মিশনের অংশ। তবে ইরান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ওই জাহাজগুলো হরমুজ দিয়ে অতিক্রম করেনি।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো সামরিক জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
সূত্র: মেহের নিউজ, এএফপি