বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গভীর রাতে সীমান্ত অতিক্রম করে আনা এসব গরু দ্রুত ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সীমান্ত পথে আসা কম দামের ভারতীয় গরুর কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় খামারিরা। তাদের আশঙ্কা, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ অব্যাহত থাকলে দেশীয় খামারিরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হবেন এবং বাজারে অস্থিরতা তৈরি হবে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও থেকে ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন পরিবহনে ভারতীয় গরু বহন করা হচ্ছে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই পরিবহন কার্যক্রম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সীমান্তবর্তী এলাকার একাধিক বাসিন্দা গণমাধ্যমকে জানান, কয়েকটি সক্রিয় চক্র সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু আনছে। পরে সেগুলো স্থানীয়ভাবে জড়ো করে ট্রাকে তুলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বালিয়াডাঙ্গীর রত্নাই সীমান্ত, আমজানখোর, ধনতলা ইউনিয়ন সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা এবং রানীশংকৈলের ধর্মগড় ও জগদ্দল সীমান্ত দিয়েই এসব গরু প্রবেশ করছে।
বালিয়াডাঙ্গী সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিদিন গভীর রাতে সীমান্ত দিয়ে গরু ঢুকছে। একদিন রাত আড়াইটার দিকে কয়েকটি গরুর পাল ভেতরে আসতে দেখি। পরে সেগুলো ছোট ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি স্থানীয়দের অজানা নয়।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জাহিদ হাসান বলেন, লাহিড়ী হাটে ভারতীয় গরু বিক্রি হচ্ছে। গভীর রাতে বালিয়াডাঙ্গী সড়কে একের পর এক গরুবাহী ট্রাক চলাচল করতে দেখা যায়। গরুগুলোর গঠন ও চিহ্ন দেখেই বোঝা যায় এগুলো ভারতীয়।