গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর অভিযোগ করেছেন, অতীতে তার ওপর হওয়া হামলাগুলোর বিচার না হওয়া এবং সরকারের একটি পক্ষের মদদ দেওয়ার কারণেই আজ ওসমান হাদির মতো ব্যক্তিদের হত্যার সাহস পাচ্ছে অপরাধীরা।
তিনি বলেন, সে সময় আমার ওপর হামলার বিচার হলে আজ হাদিকে খুন হতে হতো না।
সরকারের ব্যর্থতার কারণেই অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে তিনি দাবি করেন।
বক্তব্যে তিনি দেশে চলমান ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির সংস্কৃতির তীব্র নিন্দা জানান।
প্রথম আলো, ডেইলি স্টারে হামলা এবং প্রবীণ সাংবাদিক নুরুল কবিরের হেনস্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এগুলো সরকারের চরম ব্যর্থতা।
নুরের মতে, স্বাধীনতার প্রাক্কালে যেভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল, বর্তমানেও তেমনি একটি চক্র দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে বিপ্লবীদের শেষ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।
ওসমান হাদিকে গত ১৫ বছরের এক অনন্য সৃষ্টি হিসেবে উল্লেখ করে নুর বলেন, যখন অভ্যুত্থানের অনেক নায়ক অপকর্মে লিপ্ত, তখন হাদি দেশ পুনর্গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার মৃত্যুতে গোটা জাতি আজ বাকরুদ্ধ। বর্তমান অবস্থাকে তিনি ‘ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত কড়াইয়ে’ পড়ার সাথে তুলনা করেন।
দেশের অরাজক পরিস্থিতির কারণে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নুর। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন— সরকার যদি নির্বাচনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়, তবে আমরা নির্বাচনে থাকব কি না তা পুনরায় বিবেচনা করতে হবে। আমরা কি রাস্তায় জীবন দেব আর সিইসি একে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে এড়িয়ে যাবেন?
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। খুনিরা কীভাবে পালিয়ে গেল সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি এখনও বিদ্যমান এবং এই সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।