২৭শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

লন্ডন থেকে প্রতি ১৫ মিনিটে প্যারিস; ব্রাসেলস ও আমস্টারডামে ছুটবে ট্রেন

ইংলিশ চ্যানেলের তলদেশের চ্যানেল টানেল হয়ে যুক্তরাজ্য থেকে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে যাতায়াতে আসতে যাচ্ছে বড় পরিবর্তন। নতুন রেল অপারেটরদের আগমন ও সক্ষমতা বাড়ায় দশকের শেষ নাগাদ লন্ডন থেকে প্যারিস, ব্রাসেলস ও আমস্টারডামে প্রায় প্রতি ১৫ মিনিটে একটি করে হাইস্পিড ট্রেন ছাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে এই রুটে মূলত ইউরোস্টারের একচেটিয়া আধিপত্য। তারা প্রতিদিন প্রায় ২৫টি রাউন্ড ট্রিপ পরিচালনা করে। তবে নতুন প্রতিযোগীরা যুক্ত হলে দৈনিক ট্রিপের সংখ্যা ৫৫ থেকে ৬৬ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পলিটিকোর হিসাবে উঠে এসেছে।

নতুন প্রতিযোগীদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভার্জিন ট্রেনস ও ইতালির রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে ট্রেনিতালিয়া। যুক্তরাজ্যের রেল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ভার্জিনকে প্রতিদিন ২০টি রাউন্ড ট্রিপের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০৩০ সাল থেকে সেবা চালুর পরিকল্পনা করছে।

অন্যদিকে ট্রেনিতালিয়া ২০২৯ সালের মধ্যেই এই রুটে ট্রেন চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা প্রতিদিন ১০টি রাউন্ড ট্রিপ চালানোর পরিকল্পনা করেছে এবং প্রায় ২ বিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে হিটাচির কাছ থেকে ১৯টি নতুন হাইস্পিড ট্রেন কিনছে।

এ ছাড়া জেমিনি ট্রেনস, উবারের সঙ্গে অংশীদারিত্বে ২০৩০ সালের মধ্যে দিনে ১১টি ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করছে। নতুন অপারেটরদের প্রবেশে প্রতিযোগিতা বাড়লে যাত্রীদের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও টিকিটের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে স্বল্প দূরত্বের বিমান চলাচল।

তবে নতুন সেবা চালু করতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, চ্যানেল টানেলের প্রযুক্তিগত অনুমোদন এবং ফ্রান্স-বেলজিয়ামের রেলপথে ট্রেন চলাচলের জায়গা নিশ্চিত করাসহ বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশনের সক্ষমতাও বড় চ্যালেঞ্জ।

এদিকে প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় ইউরোস্টারও প্রায় ২ বিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে ৫০টি নতুন হাইস্পিড ট্রেনের অর্ডার দিয়েছে। ফলে আগামী দশকে লন্ডন ও ইউরোপের মধ্যে রেলযাত্রা আরও দ্রুত, সহজ ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সূত্র : পলিটিকো

Home R3