৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুদ্ধের প্রভাবে অনিশ্চয়তায় মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার উদ্বিগ্ন। বিশেষত, বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীদের প্রায় ৯০ শতাংশের কর্মসংস্থান এই অঞ্চলে, যেখানে শুধু সৌদি আরবেই তাদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ কাজ করছেন। মোট প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী বিভিন্ন মধ্যপ্রাচ্য দেশগুলিতে কর্মরত। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে চাকরি হারানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, যুদ্ধের প্রভাব দুইভাবে পড়বে—একদিকে যারা ইতিমধ্যেই প্রবাসে আছেন, তারা নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হবেন; অন্যদিকে যারা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারা সেখানে যেতে দেরি করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, শ্রমবাজার সম্প্রসারণের প্রয়োজন।

শ্রম ও অভিবাসন বিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ মন্তব্য করেন, প্রবাসীরা চাকরি হারাতে পারেন এবং ফেরত আসতে বাধ্য হতে পারেন। যারা যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন, তারা দ্রুত প্রস্থান নাও করতে পারেন। সুতরাং মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের অভিবাসন খাতে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

চলমান যুদ্ধের কারণে অনেক প্রবাসী কর্মী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশ্লেষকরা সরকারের কাছে পরামর্শ দিয়েছেন, সাময়িকভাবে নিরাপদ আশ্রয় ব্যবস্থা, আপদকালীন অর্থ সাহায্য এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় জরুরি।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন সংকটে থাকা কর্মীদের সহায়তায় সরকার সবধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। দূতাবাসগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আটকে পড়া শ্রমিকদের ছুটি ও ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

এই পরিস্থিতিতে সরকারের লক্ষ্য, কোনো প্রবাসী শ্রমিকও যেন নিরাপত্তাহীনতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।