৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মুসলিম বিশ্ব

মুসলিম বৃদ্ধের পাশে দাঁড়িয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের রোষানলে পড়লেন হিন্দু যুবক

মুসলিম বৃদ্ধের পাশে দাঁড়িয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের রোষানলে পড়লেন হিন্দু যুবক

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্য থেকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আরেকটি ঘটনা সামনে এসেছে। একজন মুসলিম বৃদ্ধ দোকানদারের পাশে দাঁড়ানোর কারণে এক হিন্দু যুবক উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর রোষানলে পড়েছেন। ঘটনাটি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এ ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ভারতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) মুসলিম মিররসহ ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরাখণ্ডের কোটদ্বার শহরের প্যাটেল রোড এলাকায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই এলাকায় প্রায় ৩০ বছর ধরে ‘বাবা ড্রেসেস’ নামে একটি কাপড়ের দোকান চালিয়ে আসছেন এক বয়স্ক মুসলিম ব্যবসায়ী।সম্প্রতি উগ্রবাদী সংগঠন বজরং দলের কয়েকজন কর্মী দোকানের নাম নিয়ে আপত্তি তোলে। তাদের দাবি, ‘বাবা’ শব্দটি হিন্দু ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং কোনো মুসলিম এই শব্দ ব্যবহার করতে পারেন না।

এই পরিস্থিতিতে দোকানদারের পাশে দাঁড়ান স্থানীয় যুবক দীপক। তিনি বজরং দলের কর্মীদের প্রশ্ন করেন,‘বাবা’ শব্দটি কি কোনো একটি ধর্মের একচেটিয়া সম্পত্তি? এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে দীপক নিজের পরিচয় দেন ভিন্নধর্মীভাবে। আমার নাম মোহাম্মদ দীপক। তার এই বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে স্থানীয় আরও কয়েকজন হিন্দু বাসিন্দা তখন দীপকের পাশে এসে দাঁড়ান। ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনার পর সেদিন বজরং দলের কর্মীরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

কিন্তু ঘটনার চার দিন পর পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। দেরাদুন, ঋষিকেশ ও হরিদ্বার থেকে প্রায় শতাধিক বজরং দলের কর্মী কোটদ্বারে এসে দীপকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে জড়ো হয়। তারা দীপক ও তার পরিবারকে লক্ষ্য করে হুমকি, গালিগালাজ ও উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। পুলিশের উপস্থিতিতেও উত্তেজিত ভিড় নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার নামে পুলিশ দীপককে ‘নিরাপত্তার স্বার্থে’ থানায় বসিয়ে রাখে। পরে দুটি এফআইআর দায়ের করা হয়। একটি বজরং দলের পক্ষ থেকে দীপকের বিরুদ্ধে এবং অন্যটি পুলিশের পক্ষ থেকে।এতে হামলাকারী ও ভুক্তভোগীকে একইভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিডিও ফুটেজে হামলাকারীদের চিহ্নিত মুখ দেখা গেলেও এফআইআরে তাদের ‘অজ্ঞাত ব্যক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একজন নিপীড়িত মুসলিম বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ানোই কি আজকের ভারতে অপরাধ? মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এই ঘটনা ভারতের সাম্প্রদায়িক বাস্তবতার একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে।রাষ্ট্রের চোখে অভিযুক্ত হলেও সাধারণ মানুষের কাছে দীপক হয়ে উঠেছেন মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক—ভয়ের রাজনীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক সাহসী নাম।

সূত্র : মুসলিম মিরর