২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রাহুল গান্ধীর পোস্টেও বাদ পড়ল বাংলাদেশের নাম

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের বিজয়কে আবারো উপেক্ষা করেছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। প্রতিবছর এই দিনটি বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবেই স্মরণ করে থাকে নয়াদিল্লি। দিবসটি উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এই বছরও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নিহত ভারতীয় সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। তবে বাংলাদেশের নাম ও এর স্বাধীনতা অর্জনের বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে ভারতের দুই প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পরিবর্তে কেবল ‘ভারতের সীমান্ত রক্ষা’ এবং ‘ঐতিহাসিক বিজয়’-এর ওপর জোর দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার পোস্টে ১৯৭১ সালের সংঘাতকে সরাসরি ‘ভারতের যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি লেখেন, ‘সাহসী সৈনিকদের স্মরণ করি যাদের সাহস এবং আত্মত্যাগের ফলে ১৯৭১ সালে ভারত ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছিল।’ তিনি আরও বলেন, তাদের আত্মত্যাগ ‘আমাদের জাতি রক্ষা করেছিল”’ এবং ‘আমাদের ইতিহাসে গর্বের মুহূর্ত স্থাপন করেছিল।’ পোস্টে একবারও বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।

একই পথে হেঁটেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী তিনি বলেন, ‘বিজয় দিবসে আমাদের সশস্ত্রবাহিনীর বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, যারা ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারতের সীমান্ত রক্ষায় তাদের বীরত্ব, নিষ্ঠা এবং অটল সংকল্প দিয়ে বিশ্বজুড়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন।

তিনি ভারতীয় সেনাদের ‘অদম্য সাহস, সংগ্রাম এবং সর্বোচ্চ ত্যাগ’কে প্রত্যেক ভারতীয়র জন্য অনুপ্রেরণার উৎস বলে বর্ণনা করেন।

রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্যের বিপরীতে গিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের অফিসিয়াল বিবৃতিতে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও ফলাফলকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে তুলে ধরেছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী স্পষ্ট করে বলেছে, বিজয় দিবস কেবল একটি তারিখ নয় – এটি ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক এবং চূড়ান্ত বিজয়ের প্রতীক।

বিবৃতিতে বলা হয়, এটি এমন এক বিজয় ছিল যেখানে মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে, যা একসাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে গেছে চূড়ান্ত স্বাধীনতার দিকে।