মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি অঞ্চলজুড়ে চলমান ‘বেআইনি হামলার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরে চলমান হামলাগুলো সাধারণ মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ ও ক্ষতির কারণ হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে, বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী। এর জবাবে ইরান ইসরাইল ও উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
ওয়াশিংটন দাবি করেছে, তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে সৃষ্ট হুমকি মোকাবিলায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এসব হামলার ফলে ইরানের সরকার কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছেন।
এ পরিস্থিতিতে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, এখনই লড়াই বন্ধ করে গুরুত্বের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার সময় এসেছে। অন্যথায় পরিস্থিতি সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
এদিকে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার জানিয়েছেন, চলমান এই যুদ্ধে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে, যা ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ।
তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা যখন অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সহায়তা তহবিল কমানোর কথা বলছেন, তখন যুদ্ধের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ফ্লেচার আরও বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিচারহীনভাবে মানুষ হত্যার এক ভয়াবহ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি যুদ্ধ ঠেকাতে যে আন্তর্জাতিক আইন ও ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোর ওপরও লাগাতার আঘাত করা হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজার ও সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ।