১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভারতে মুসলিম কিশোরীকে গণধর্ষণের পর হত্যা; পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার

কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির বারুইপুরে এক মুসলিম কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় ১১ বছর বয়সী ওই কিশোরীর পরিবার দাবি করেছে, ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করে একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার বিকেলে খাবার কিনতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই কিশোরীটি নিখোঁজ ছিল। পরদিন রোববার (০৫ জুলাই) সকালে বাড়ির কাছাকাছি একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর বারুইপুর ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং টহল জোরদার করা হয়।

সোমবার পুলিশের হাতে প্রাথমিক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পৌঁছানোর পর পকসো আইনে ধর্ষণ ও হত্যার মামলা দায়ের করা হয়। যদিও শুরুতে মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তদন্তের জন্য ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ প্রথমে একজনকে গ্রেপ্তার করে, পরে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নির্যাতিতার পরিবারকে সুবিচারের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পরিবারটি রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে।

ওই অঞ্চলের এক বাসিন্দা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘মাগরিবের নামাজের পরে মেয়েটি তার বন্ধুর জন্মদিন পালন করতে গিয়েছিল। কিন্তু রাত ৮টার পর থেকে তার আর কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘রাতে প্রায় সাড়ে ৮টা নাগাদ আমরা থানায় যোগাযোগ করেছিলাম, কিন্তু পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছিল না। রোববার সকালে আমরা স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পাই। পরে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীকে আমরাই ধরে ফেলি।’

ওই বাসিন্দা আরও বলেন, ‘দোষী নিজেই থানায় দোষ স্বীকার করেছিল এবং তাকে সঙ্গে নিয়েই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি। তখনও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

অন্যদিকে শান্তনু মণ্ডল নামে এক স্থানীয় বিজেপি নেতা দোষীকে নিয়ে পালিয়ে যায়।’ ওই স্থানীয় বাসিন্দা ‘দোষী’ বলে উল্লেখ করলেও তার বিরুদ্ধে ওঠা হত্যার অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণসাপেক্ষ।

তিনি শান্তনু মণ্ডল বলে যার নাম উল্লেখ করেন, তিনি বারুইপুর পশ্চিম তিন নম্বর অঞ্চলের বিজেপির জেনারেল সেক্রেটারি।

অন্য একজন স্থানীয় বাসিন্দা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, ‘শান্তনু মণ্ডল প্রথমে স্থানীয়দের ওই পুকুরের কাছে যেতে বাধা দেন এবং আসামিকে আড়াল করার চেষ্টা করেন।’

এই ঘটনার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা। যদিও বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডল সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন, তিনি অভিযুক্ত কাউকেই পালাতে সাহায্য করেননি।

তিনি বলেন, ‘আমরাই ঘটনা শোনার পরে আইসির কাছে গিয়ে অভিযোগ নথিভুক্ত করি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে একজন ব্যক্তিকে আমরা শনাক্ত করি, যাকে ওই শিশুটিকে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। আমরাই তৎপরতার সঙ্গে তাকে ধরি এবং সে নিজের দোষ স্বীকার করে।’

শান্তনু মণ্ডল জানান, অভিযুক্ত জানিয়েছে, ওই ঘটনায় চারজন সংঘবদ্ধভাবে নাবালিকার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। এমনকি পা দিয়ে মেয়েটির গলা চেপে ধরা হয়েছিল।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Home R3