বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ায় দাম বড় ধরনের পতন থেকে রক্ষা পেয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ১৮৩ দশমিক ১২ ডলারে। একই সময়ে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারস ১ শতাংশ কমে ৫ হাজার ১৯১ দশমিক ৬০ ডলারে নেমে আসে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়ায় পুনরায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং সুদের হার কমার সম্ভাবনাও কিছুটা কমেছে। এর প্রভাব স্বর্ণের বাজারেও পড়ছে।
সুইসকোটের বিশ্লেষক কার্লো আলবার্তো ডে কাসা বলেন, গত কয়েক দিনে স্বর্ণের দামে বড় কোনো ওঠানামা দেখা যায়নি এবং এটি এখনও ৫ হাজার ডলারের ওপরে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ফলন বাড়ায় স্বর্ণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। সাধারণত ডলারের দাম বাড়লে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা বেশি ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। অন্যদিকে বন্ডের ফলন বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৮৬ দশমিক ৬০ ডলার হয়েছে। প্লাটিনাম ১ শতাংশ কমে ২ হাজার ১৭৯ দশমিক ৬৪ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৩৭ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে।
অন্যদিকে দেশে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। বুধবার সকাল ১০টা থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ১২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৭ টাকা।
সূত্র: রয়টার্স।