ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এই বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার কাছে পাকিস্তানের তৈরি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি জানা তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
সোমবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে হলো, যখন পাকিস্তান তার প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থানে নিতে একাধিক দেশের সঙ্গে অস্ত্র কেনাবেচা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। এর মধ্যে লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মি ও সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির কথাও রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সজাফরি সজামসোদিন পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রিকো রিকার্ডো সিরাইত বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন,
“এই বৈঠকে সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, কৌশলগত সংলাপ, প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ জোরদার এবং দীর্ঘমেয়াদে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।”
নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানায়, আলোচনার মূল বিষয় ছিল পাকিস্তান ও চীনের যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রি এবং নজরদারি ও হামলায় সক্ষম ড্রোন। দুটি সূত্র দাবি করেছে, আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে এবং এতে ৪০টির বেশি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
একটি সূত্র আরও জানায়, ইন্দোনেশিয়া পাকিস্তানের তৈরি ‘শাহপার’ ড্রোন কেনার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে।
তবে এখনো যুদ্ধবিমান বা ড্রোন সরবরাহের সময়সূচি কিংবা চুক্তির মেয়াদ নিয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এ বিষয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর) তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে আরেকটি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, পাকিস্তান শুধু যুদ্ধবিমান নয়—আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ইন্দোনেশিয়ার বিমানবাহিনীর জুনিয়র থেকে সিনিয়র কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং প্রকৌশল সহায়তা নিয়েও আলোচনা করছে।
সব মিলিয়ে, এই আলোচনা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।