২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জ্বালানি মজুত-চোরাচালান রোধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও চোরাচালান ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন তিনি।

শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে সংসদ ভবনে সরকার দলীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম।

চিফ হুইপ জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও সরকার তা নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সরকার প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখছে। তবে কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে এবং সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এ অবস্থায় চোরাচালান ও অবৈধ মজুত বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিরুনি অভিযান পরিচালনা এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে এবং আরও ২ লাখ মেট্রিক টন তেল আসার পথে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কেউ যাতে অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত তেল মজুত করতে না পারে এবং কোথাও তেলের দাম বৃদ্ধি না পায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী সংসদ অধিবেশনে জ্বালানি মন্ত্রী বিস্তারিত বক্তব্য রাখবেন।

বৈঠকের শুরুতে স্পিকারের সহধর্মিণীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয় এবং মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সাম্প্রতিক বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়েও আলোচনা হয়। দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সংসদীয় কমিটিকে অবহিত করেন।

চিফ হুইপ বলেন, মন্ত্রীদের কাছ থেকে সংসদ সদস্যদের নিয়মিত ব্রিফিং দেওয়ার এই উদ্যোগ একটি নতুন পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবেন। ভবিষ্যতে প্রতি মাসে এ ধরনের ব্রিফিং আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।