জনগণ এখন গুম, অপহরণ ও ভয়ের সংস্কৃতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র ও সমাজ প্রত্যাশা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৯ মে) ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক ফেসবুক বার্তায় তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণ এখন এমন একটি রাষ্ট্র চায়, যেখানে জানমালের নিরাপত্তা থাকবে এবং অবিচার, অনাচার ও নির্যাতন-নিপীড়নের কোনো ভয় থাকবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের সঙ্গে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে উঠলে দায়িত্ব পালনের পথ আরও সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা রক্ষায় একটি পেশাদার ও দায়িত্বশীল পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। ‘পুলিশ সপ্তাহ’ হয়ে উঠুক জনগণের বিশ্বস্ত বাহিনী হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার অঙ্গীকার পূরণের একটি উপলক্ষ।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে সরকার কাজ করছে। তবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রতিটি সংকটে বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের ভূমিকা তা প্রমাণ করেছে।
আন্তর্জাতিক পরিসরেও পুলিশের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের সাফল্য দেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এছাড়া মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।