যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের সম্ভাবনাকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’। একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সমন্বয় চলছে।
তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, ইরানের ওপর থেকে এখনই কোনো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার পরই কেবল নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনেভায় এই সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যকার অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী কারিগরি ও কৌশলগত আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা জোরদারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বনেতাদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানোর পরিকল্পনা করছেন। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালিতে’ নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে অংশীদার দেশগুলোকে উৎসাহিত করবেন ট্রাম্প।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর পেছনে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গত সপ্তাহে কাতারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরান সফর শেষে একটি সংশোধিত খসড়া চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনে ফেরে। এই খসড়াটিকেই দুই দেশের মধ্যকার চলমান আলোচনার সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ‘ব্রেকথ্রু’ বা অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন মার্কিন নীতি-নির্ধারকরা।
সূত্র : মিডল ইস্ট আই