মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া ১০ দফার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে আলোচনার জন্য ‘বাস্তবায়নযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, এই প্রস্তাবকে ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি কার্যকর চুক্তি সম্ভব হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং অতীতের বেশ কিছু বিরোধপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশ ঐকমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করা যেতে পারে।
ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তির ভিত্তি হিসেবে নিম্নলিখিত শর্তগুলো তুলে ধরা হয়েছে:
* ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
* হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা
* মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার
* ইরান ও তার মিত্রদের ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ
* বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করা
* জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ-এর মাধ্যমে চুক্তিকে বাধ্যতামূলক করা
* ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃতি
* হরমুজ প্রণালী নিয়ে অবস্থান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ইরানের সামরিক তত্ত্বাবধানে নিরাপদ রাখা হবে। প্রতিটি জাহাজ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে। আলোচনা ব্যর্থ হলে প্রণালী বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রস্তাবগুলো কঠোর হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি তা মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা কম। মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে গেলে তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে।
তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
ইসরায়েলের অবস্থান
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন জানালেও বলেছেন, এটি লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে না। ইসরায়েল ইরানের কাছে হামলা বন্ধ এবং পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে।
লেবাননে চলমান সংঘাতে প্রায় ১,৫০০ মানুষ নিহত এবং ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মধ্যস্থতা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই উদ্যোগে মধ্যস্থতা করছেন এবং ইসলামাবাদে উভয় পক্ষকে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ইরান এতে সম্মত হলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
অন্যদিকে চীন ইরানকে যুদ্ধবিরতির পথে এগিয়ে আসতে উৎসাহ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
দুই সপ্তাহের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা কমাতে পারে। তবে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব নিয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি চূড়ান্ত সমাধান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার সূচনা মাত্র।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান