জিও নিউজের ‘নয়া পাকিস্তান’ অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, ‘কারাগারে আইন ও নিয়ম মেনেই সাক্ষাৎ করতে হয়। এখন কোনও সাক্ষাৎ হচ্ছে না; সব সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করা হয়েছে’। তিনি আরও বলেন, কারাগারের বাইরে কেউ অশান্তি তৈরি করতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারার বলেন, ‘রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে। কারাগারে কোনও সাক্ষাৎ হবে না, সমাবেশেরও অনুমতি দেওয়া হবে না।’
তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টের উপস্থিতিতেই সাক্ষাৎ হয়। কিন্তু এসব সাক্ষাতে রাজনৈতিক আলোচনা ও নির্দেশনা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তারার দাবি করেন, ‘কারাগারের ভেতর থেকে রাষ্ট্রবিরোধী এজেন্ডা এগিয়ে নেয়ার অনুমতি দেয়া হবে না।’
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ইমরান খান কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুর্নীতি থেকে সন্ত্রাসবাদসহ বিভিন্ন মামলায় তিনি বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন। সরকারি জোটের অভিযোগ, ইমরান খান দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত করার চেষ্টা করেছেন এবং জনগণকে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছেন।
তারার বলেন, পিটিআই দেশকে ঋণখেলাপী হওয়ার দিকে ঠেলে দিতে চেয়েছিল। আইএমএফকে চিঠি লিখে পাকিস্তানকে ডিফল্টে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা হয়েছিল। ৯ মে সেনা স্থাপনায় হামলাও হয়েছিল। তার দাবি, নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ইমরান এখন রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন। পিটিআই-এর অনেক সংসদ সদস্য এখন ইমরানের প্রতি ক্ষুব্ধ এবং মনে করেন, ইমরান ‘তাদের ফাঁদে ফেলেছেন’।
তারার বলেন, ইমরান একজন উগ্রপন্থি বলে পিটিআই এমপিরা অভিযোগ করছেন, তিনি ওসামা বিন লাদেনকে ‘শহীদ’ বলেছেন। তার মতে, ইমরানের ‘তালেবানসুলভ মানসিকতা’ রয়েছে এবং তিনি ‘সন্ত্রাসীদের বন্ধু’ মনে করেন। তিনি বলেন, ‘এই উগ্র ব্যক্তি যুদ্ধোন্মত্ততায় আচ্ছন্ন, তার নিজের দলও সেটা আর কতদিন সহ্য করবে?’
পিটিআইয়ের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারার বলেন, ‘তারা সুযোগ নষ্ট করেছে। যারা বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাস বা উগ্র চিন্তাধারা ছড়ায় তাদের সঙ্গে কোনও আলোচনাই হবে না। পিটিআই চাইলে দলীয় প্রতিষ্ঠাতাকে বাদ দিয়ে সংসদে আলোচনায় আসতে পারে।’
তারার বলেন, এখন পিটিআইয়ের সামনে একমাত্র পথ— ইমরান খানকে ছাড়া আলোচনায় বসা।
